জামালগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে বসতভিটা, আমন ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১১:২৭:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১১:২৯:২২ অপরাহ্ন
আব্দুল্লাহ আল মামুন::
জামালগঞ্জ উপজেলার সর্ববৃহৎ পাগনার হাওরের গুরুত্বপূর্ণ উজ্জ্বলপুর বেড়িবাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলায় আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভীমখালী ইউনিয়নের উজ্জ্বলপুর পুরাতন বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গনস্থল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বাঁধের পাশের ও নদী তীরবর্তী বসতবাড়ির মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে ভাঙ্গনস্থলের পাশ দিয়ে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের (উজ্জ্বলপুর অংশে) ব্রীজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এলজিইডি সড়কটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আকস্মিক বন্যায় উজ্জ্বলপুর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র সড়ক জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত এই বেড়িবাঁধটি এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে পাগনার হাওরের ফসল রক্ষার জন্যও বাঁধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কাবিটা প্রকল্পের অর্থায়নে ৪১টি বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করলেও উজ্জ্বলপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধটিতে হয়নি কোন কাজ। স্থানীয় কৃষকেরা আরও বলেন, বোরো ফসল উত্তোলনের সময় যদি সুরমা নদীর পানি এভাবে বৃদ্ধি পেত, তাহলে জামালগঞ্জের সর্ববৃহৎ পাগনার হাওরের ফসল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ত। স্থানীয় কৃষক আইনুল হক জানান, উজ্জ্বলপুরের এই বেড়িবাঁধটি পাগনার হাওরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধটিতে সময়মতো কাজ করা হলে এভাবে ভেঙ্গে পড়তো না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধের পাশাপাশি সড়ক ও আশপাশের জনবসতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উজ্জ্বলপুর গ্রামের ব্যবসায়ী এমদাদুল হক বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার কারণে আমাদের আমন ফসলের বিরাট ক্ষতি হবে। অনেক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। যদি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হবে। এমনকি জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তা বিচ্ছিন্নও হতে পারে। বারবার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরও বেড়িবাঁধটি মেরামত করা হয়নি। লাখ খানেক টাকা খরচ করলে এই বিপর্যয় দেখা দিত না। এই বাঁধটি ভাঙ্গার কারণে কয়েকশ পরিবার আমন ফসল থেকে বঞ্চিত হবে। কৃষকের এই ক্ষতির দায়ভার কে নিবে? ইউপি চেয়ারম্যানকে বারবার বলার পরও কোন কাজ হয়নি। হাওরের আমন ফসল, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়ক এবং নদী তীরবর্তী জনবসতি রক্ষায় বাঁধটিতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক ও জিও টেক্স দিয়ে ভাঙ্গা মেরামতের জন্য ইউএনও সাব নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিকল্প হিসেবে বস্তা, ভিট বালু ও বাঁশ দিয়ে মেরামতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাৎক্ষণিক ব্লক ও জিও টেক্স দিয়ে কেন কাজ করা হলো না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারী মালামাল বহনকারী লেবার এলাকায় না থাকায়, তাৎক্ষণিক ব্লক দিয়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি। বস্তা, ভিট বালু ও বাঁশ দিয়ে কাজের চাহিদা দেওয়া হয়েছে, দু’একদিনের মধ্যে বরাদ্দ পেলে ভাঙ্গা মেরামতের কাজ শুরু হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, উজ্জ্বলপুর বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে হাওরে পানি ঢুকায় আমন ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুঁকিতে পড়বে ওই অঞ্চলের আমন ফসল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিল্পী রাণী মোদক বলেন, কয়েকদিন পূর্বে বাঁধটির ভাঙ্গা পরিদর্শন করেছি। বাঁধটি মেরামত জন্য তাৎক্ষণিক পাউবোর কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ব্লক ও জিও টেক্স বস্তার ব্যবস্থা করা হয়। সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে দ্রুত কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। কেন চেয়ারম্যান কাজ করেনি সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করুন। পাউবো সুনামগঞ্জ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধটি জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তা ও পাগনার হাওরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধটি মেরামতের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে ভাঙ্গা মেরামতের জন্য পুরোনো ব্লক ও জিও টেক্স দেওয়া হয়। ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করলে দেরি হবে, তাই চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে কাজ করতে বলা হয়। যাতে করে তাৎক্ষণিক কাজ করে আপদকালীন সময় পার করা যায়। যেহেতু জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তাসহ পাগনার হাওরের জন্য বাঁধটি গুরুত্বপূর্ণ, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত কাজ করার ব্যবস্থা করবো।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com