লোকবল সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র

হাওর অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়নে নতুন ভাবনা প্রয়োজন

আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক। সেই লক্ষ্যেই উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র (ইউপিটিসি), যা আগে ইউআরসি নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু সুনামগঞ্জে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে কার্যত ‘অচল’ হয়ে পড়েছে। ৪৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র ১২ জন কর্মরত এবং ৩৬টি পদ শূন্য - এ চিত্র শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতিফলন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় একজন কর্মীও নেই। অন্য উপজেলার একজন ইনস্ট্রাক্টরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয় পরিদর্শন, একাডেমিক সহায়তা, শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন ও শিক্ষক উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে নাম পরিবর্তন করে ইউআরসি থেকে ইউপিটিসি করা হলেও বাস্তবে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসেনি। নাম বদলালেও জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা কার্যক্রম সম্প্রসারণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এটি স্পষ্ট করে যে, কেবল নাম পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। সুনামগঞ্জের ভৌগোলিক বাস্তবতা দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় ভিন্ন। হাওরাঞ্চলের দুর্গম পরিবেশ, যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা এবং মৌসুমি প্রতিকূলতার কারণে এখানে দায়িত্ব পালনে অনেকেই অনাগ্রহী। ফলে নিয়োগ পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই বাস্তবতায় হাওর অঞ্চলের জন্য বিশেষ জনবল নীতি, আর্থিক প্রণোদনা এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাধ্যতামূলক কর্মকাল নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় এ সংকট কাটানো কঠিন হবে। এছাড়া মধ্যনগর উপজেলায় এখনো ইউপিটিসির কোনো পদ সৃষ্টি না হওয়াও বিস্ময়কর। একটি স্বতন্ত্র উপজেলা হওয়ার পরও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অন্য উপজেলা থেকে পরিচালিত হওয়া প্রশাসনিক পরিকল্পনার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। সরকার যখন শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করছে, তখন শিক্ষক প্রশিক্ষণের মূল প্রতিষ্ঠানগুলো জনবলহীন হয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ সম্পন্ন করা, হাওরাঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালু করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করা। প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। আর সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে হবে। সুনামগঞ্জের ইউপিটিসিগুলোর জনবল সংকট দূর করতে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। হাওর অঞ্চলের শিশুদেরও সমমানের মানসম্পন্ন শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, আর সেই অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com