জনগণের সেবক হোক প্রশাসন

আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১০:২৭:২০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১০:২৭:২০ পূর্বাহ্ন
রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনের বিকল্প নেই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্বশীল অংশ। তাই তাদের প্রধান পরিচয় শাসক নয়, বরং জনগণের সেবক। সম্প্রতি বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি কর্মকর্তাদের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা পরিহার করে প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবক হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা সময়োপযোগী এবং তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমালোচনার মুখে রয়েছে। সেবাপ্রত্যাশী মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি এবং অনাকাক্সিক্ষত আমলাতান্ত্রিক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। ফলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণœ হয়। এ বাস্তবতায় জনপ্রশাসনকে আরও মানবিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশাসনের রাজনীতিকরণ থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য শুধু বক্তব্য নয়, প্রয়োজন কার্যকর সংস্কার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, সেবার মান নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমাতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। বাস্তবসম্মত ও নির্ভুল তথ্য ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে না। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অর্থনীতির প্রতিটি খাতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান। তাই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষি, রেমিট্যান্স, কারিগরি শিক্ষা এবং কৃষিনির্ভর শিল্প বিকাশের বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কৃষির আধুনিকায়ন এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করাও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন পরিকল্পনা কিংবা নীতিমালা তখনই সফল হবে, যখন তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রশাসন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণে মানবিকতা, সততা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, নাগরিকের সমস্যা দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে সমাধান করাই হতে হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার জনগণ। আর জনগণের আস্থা অর্জনই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজন একটি জনবান্ধব, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, যেখানে প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে গর্বের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান বাস্তবে রূপ পেলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাও আরও সুসংহত হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com