স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সদস্য মো. এমরান হোসেন রুবেল দাবি করেছেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে তাকে মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
শনিবার জামালগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমরান হোসেন রুবেল এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, গত ২২ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক-সংক্রান্ত একটি পোস্টের মন্তব্যে তিনি জামালগঞ্জ থানার এএসআই গোলাম কিবরিয়া রাজিবকে উদ্দেশ করে একটি মন্তব্য করেন। এরপর থেকেই ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
রুবেলের ভাষ্য, গত ৯ জুলাই ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামের আজিজুল হকের একটি নৌকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। তবে ওই ঘটনায় তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি এবং পুলিশের প্রকাশিত ভিডিওতেও তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের কোনো দৃশ্য নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবুও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, একই দিন তার ছেলের মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট এএসআইয়ের ব্যবহৃত নম্বর থেকে একটি কল আসে। ওই কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা শনাক্তে বর্তমানে আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অডিওটির সত্যতা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবিও জানান তিনি।
এমরান হোসেন রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জামালগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ৬১ দিন কারাবরণও করেছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকটি প্রশ্নও উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে- তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে মামলার আসামি করা হলো, পুলিশের ধারণ করা ভিডিও কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল এবং ফেসবুকে মন্তব্য করার পর থেকেই কেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন।
এছাড়া ‘একুশে জামালগঞ্জ’ নামে একটি ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেল বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশের বিচার বিভাগের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করার সাংবিধানিক নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।