শহীদনূর আহমেদ ::
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষা এলেই নতুন করে ফিরে আসে আতঙ্কের নাম ‘আফাল’। হাওরের বিশাল ঢেউ স্থানীয়দের কাছে ‘আফাল’ নামে পরিচিত। বছরের পর বছর এই ঢেউয়ের তান্ডবে ভেঙে যাচ্ছে বসতভিটা, বিলীন হচ্ছে গ্রাম, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছেন নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। হাওরপাড়ের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা, ভিলেজ প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপাড়ের বাহাদুরপুর গ্রাম এখন আফালের সবচেয়ে বড় শিকার। জেলে অধ্যুষিত এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে গত এক যুগে গ্রামের অসংখ্য বসতভিটা হাওরের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে এলাকা ছেড়েছেন বহু পরিবার। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ আফাল। দিন-রাত অবিরাম ঢেউয়ের আঘাতে ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি মৎস্যজীবী পরিবারের ঘর হাওরে বিলীন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কেউ বাঁশ ও কচুরিপানা দিয়ে অস্থায়ী আড়ি তৈরি করে বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নিরুপায় হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামে স্থায়ী ওয়েভ প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢল ও ঢেউয়ে সর্বস্ব হারানো পরিবারের আর্তনাদ শুনতে কেউ এগিয়ে আসছে না। বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা সুষমা বর্মণ বলেন, গত তিন দিন ধরে ঘুমাতে পারছি না। ঢেউয়ে ঘরের অর্ধেক হাওরে চলে গেছে। কখন বাকি অংশও ভেঙে যায় সেই আতঙ্কে আছি। ঘর ভেঙে গেলে সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, জানি না। একই গ্রামের নিখিল বর্মণ বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের খবর কেউ রাখে না। প্রতিবছর আফালের তা-বে অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এ বর্ষায় আরও অনেক ঘর হাওরে চলে যাবে। স্থানীয়দের মতে, বাহাদুরপুরের চিত্রই এখন পুরো হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা। হাওরপাড়ের অসংখ্য গ্রাম আফালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বাড়ছে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা বলেন, আগে হাওরে প্রচুর হিজল, করচ ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ থাকায় ঢেউয়ের তীব্রতা কম ছিল। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় এখন আফালের ভয়াবহতা বেড়েছে। তিনি বলেন, হাওরকে হাওরের মতো থাকতে দিতে হবে। হাওর ভরাট করে নতুন বসতি গড়ে তোলা বন্ধ করতে হবে। হাওরপাড়ে হিজল-করচ গাছের ব্যাপক বনায়ন এবং সরকারি অর্থায়নে ভিলেজ প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ করলে আফালের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরাকারি টিন বরাদ্দ দেয়া আছে। আবেদন পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে টিন বিতরণ করা হবে। তাছাড়া আফাল ও নদী ভাঙন থেকে বসতি রক্ষায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের কথা ভাবছে সরকার।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষা এলেই নতুন করে ফিরে আসে আতঙ্কের নাম ‘আফাল’। হাওরের বিশাল ঢেউ স্থানীয়দের কাছে ‘আফাল’ নামে পরিচিত। বছরের পর বছর এই ঢেউয়ের তান্ডবে ভেঙে যাচ্ছে বসতভিটা, বিলীন হচ্ছে গ্রাম, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছেন নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। হাওরপাড়ের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা, ভিলেজ প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপাড়ের বাহাদুরপুর গ্রাম এখন আফালের সবচেয়ে বড় শিকার। জেলে অধ্যুষিত এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে গত এক যুগে গ্রামের অসংখ্য বসতভিটা হাওরের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে এলাকা ছেড়েছেন বহু পরিবার। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ আফাল। দিন-রাত অবিরাম ঢেউয়ের আঘাতে ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি মৎস্যজীবী পরিবারের ঘর হাওরে বিলীন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কেউ বাঁশ ও কচুরিপানা দিয়ে অস্থায়ী আড়ি তৈরি করে বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নিরুপায় হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামে স্থায়ী ওয়েভ প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢল ও ঢেউয়ে সর্বস্ব হারানো পরিবারের আর্তনাদ শুনতে কেউ এগিয়ে আসছে না। বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা সুষমা বর্মণ বলেন, গত তিন দিন ধরে ঘুমাতে পারছি না। ঢেউয়ে ঘরের অর্ধেক হাওরে চলে গেছে। কখন বাকি অংশও ভেঙে যায় সেই আতঙ্কে আছি। ঘর ভেঙে গেলে সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, জানি না। একই গ্রামের নিখিল বর্মণ বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের খবর কেউ রাখে না। প্রতিবছর আফালের তা-বে অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এ বর্ষায় আরও অনেক ঘর হাওরে চলে যাবে। স্থানীয়দের মতে, বাহাদুরপুরের চিত্রই এখন পুরো হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা। হাওরপাড়ের অসংখ্য গ্রাম আফালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বাড়ছে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা বলেন, আগে হাওরে প্রচুর হিজল, করচ ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ থাকায় ঢেউয়ের তীব্রতা কম ছিল। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় এখন আফালের ভয়াবহতা বেড়েছে। তিনি বলেন, হাওরকে হাওরের মতো থাকতে দিতে হবে। হাওর ভরাট করে নতুন বসতি গড়ে তোলা বন্ধ করতে হবে। হাওরপাড়ে হিজল-করচ গাছের ব্যাপক বনায়ন এবং সরকারি অর্থায়নে ভিলেজ প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ করলে আফালের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরাকারি টিন বরাদ্দ দেয়া আছে। আবেদন পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে টিন বিতরণ করা হবে। তাছাড়া আফাল ও নদী ভাঙন থেকে বসতি রক্ষায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের কথা ভাবছে সরকার।