পৌর কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল, নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু

নদ-নদীর পানি কমলেও কাটেনি বন্যার শঙ্কা

আপলোড সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৯:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৯:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েক দিন ধরে বৃদ্ধি পাওয়া নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও জেলার বন্যার শঙ্কা এখনো কাটেনি বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য পৌরসভাকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২৪ মিটার, যা আগের দিন একই সময়ের তুলনায় ২ সেন্টিমিটার কম। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৭৭ মিলিমিটার। বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল কমে যাওয়ায় জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাই ও রক্তি নদীর পানিও কিছুটা কমেছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীতীরবর্তী ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢল কম নামায় নদীর পানি কিছুটা নেমেছে। তবে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, গত কয়েকদিন দ্রুতগতিতে নদ-নদীর পানি বাড়লেও গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে জেলার নি¤œাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দিরাই, জগন্নাথপুর ও ছাতক পৌরসভাকেও নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মো. মতিউর রহমান খান জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের সহযোগিতার জন্য পৌরসভার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণকক্ষের হটলাইন নম্বর ০১৭১৬-৩৮৮৩৮২। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১২ উপজেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে শুকনা খাবার ও জিআর চালসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com