শহীদনূর আহমেদ::
চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। এদিকে, টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাইসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বৃহ¯পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুরমা নদীর নবীনগর পয়েন্টে পানি ৫৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর দিরাইয়ের মার্কুলী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে ওই এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় যাতায়াত করছেন। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নি¤œাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে বন্যার আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বন্যা দেখা দিলে জানমাল ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে বন্যা পরিস্থিতিতে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ একটি বন্যাপ্রবণ জেলা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান প্রস্তুত রাখতে হবে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য জরুরি সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তৎপর থাকতে হবে। পরিবার পর্যায়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেন তিনি। অন্যদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলার ১,৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, জিআর চাল ও শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের (ডিআরআরও) সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৮৪৭৯৭৮৯৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে বিরূপ আবহাওয়া ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকাগুলোতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া ও নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পর্যটক বহনকারী নৌযান চলাচল থেকে বিরত থাকতে হবে। হাউজবোটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিংসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। এদিকে, টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাইসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বৃহ¯পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুরমা নদীর নবীনগর পয়েন্টে পানি ৫৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর দিরাইয়ের মার্কুলী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে ওই এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় যাতায়াত করছেন। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নি¤œাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে বন্যার আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বন্যা দেখা দিলে জানমাল ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে বন্যা পরিস্থিতিতে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ একটি বন্যাপ্রবণ জেলা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান প্রস্তুত রাখতে হবে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য জরুরি সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তৎপর থাকতে হবে। পরিবার পর্যায়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেন তিনি। অন্যদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলার ১,৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, জিআর চাল ও শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের (ডিআরআরও) সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৮৪৭৯৭৮৯৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে বিরূপ আবহাওয়া ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকাগুলোতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া ও নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পর্যটক বহনকারী নৌযান চলাচল থেকে বিরত থাকতে হবে। হাউজবোটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিংসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।