স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদ- ও অর্থদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তিন দন্ডিতকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এক পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সুনামগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানাযায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা গ্রামের ছমেদনগর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শানুর মিয়া (৭৮) এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় রেনু মিয়া, জাহের মিয়া, আবু তাহের, জাফর মিয়া, নিলুফা, হাজেরা, আলমগীর, মনির হোসেন, খালেদা ও কুডুনিকে আসামি করা হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে নৈনাং বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে শানুর মিয়ার ছেলে আজিজুর রহমানের পথরোধ করে অভিযুক্তরা। পরে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় আজিজুরকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তার ছোট ভাই জাহের ও সাজিদুরকেও মারধর করা হয়। একই ঘটনায় তার কন্যা সাহেদা বেগম ও মালেকুনও হামলার শিকার হন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় আজিজুরের পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলের চাবি, সাহেদা বেগমের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং মালেকুনের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহতদের প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) রায়ে আদালত জাহের মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদ-, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদ-; আলমগীরকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদ-, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদ-; জাফর মিয়াকে ৭ বছরের কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদ-, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদ- এবং রেনু মিয়াকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদ-,
অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদ- প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর দ-িত জাহের মিয়া, জাফর মিয়া ও রেনু মিয়াকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক থাকায় দ-িত আসামি আলমগীরের বিরুদ্ধে সাজা কার্যকরের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত। মামলার অপর আসামিদের অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।