স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুর উপজেলার শান্তিপুর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও ধারণ করায় নজরুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বহুল আলোচিত যাদুকাটা নদীর শাখা শান্তিপুর নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত নজরুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুর রহমান (৩৭) বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মজিবুর রহমান (৫৫), কফি মিয়া (৩৮), নজির হোসেন (৩১), মুক্তার হোসেন (৩০) ও কদু মিয়া (৩৬)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি শান্তিপুর বাজারে মাদকবিরোধী সভা এবং শান্তিপুর নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এমপি নদী থেকে সব ধরনের বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এরপরও বুধবার সকালে মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল ১০-১২টি নৌকা নিয়ে নজরুল ইসলামের ফসলি জমি সংলগ্ন শান্তিপুর নদী থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বালু উত্তোলনের ভিডিও ধারণ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মজিবুর রহমান ও তার ভাই-ভাতিজাসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র শান্তিপুর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, নজরুলরাই তাদের জমি থেকে বালু উত্তোলন করছিল। স্থানীয়দের খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে তাদের বাধা দিই। এ কারণেই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।