‘নৌকার গ্রাম মাইজবাড়ি’

কোটি টাকার নৌকা বানিয়েও সচ্ছল নন কারিগররা, চান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা

আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১০:৫৭:০১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১০:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি::
হাওরের দেশে বর্ষা মানেই নৌকার রাজত্ব। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় জলমগ্ন থাকে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ জনপদ। তখন লাখো মানুষের চলাচল, জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে ‘নৌকা’। আর সেই নৌকার চাহিদা পূরণে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের কারিগররা। হাতুড়ির ঠকঠক শব্দ, করাতের ঘর্ষণ আর কাঠের গন্ধে মুখর এই গ্রাম এখন পরিচিত ‘নৌকা তৈরির গ্রাম’ হিসেবে।

জেলা শহর থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূরের মাইজবাড়ি গ্রামে কয়েক যুগ ধরে তৈরি হচ্ছে কাঠের নৌকা। গ্রামের তিন হাজারেরও বেশি মানুষের প্রধান পেশা নৌকা নির্মাণ। বারকি, খিলুয়া, ডিঙিসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরি হয় এখানে। বছরের ১২ মাসই চলে নৌকা তৈরির কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে প্রায় চার শতাধিক ছোট-বড় নৌকা বিক্রি হয় এই গ্রাম থেকে। বছরে যার বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা। সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা মাইজবাড়িতে এসে নৌকা কিনে নিয়ে যান। হাওরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, মাছ ধরা, মাছ পরিবহন, পুকুরে মাছের খাবার দেওয়া এবং বিভিন্ন জলাশয়ে চলাচলের কাজে ব্যবহৃত হয় এসব নৌকা। নৌকার ধরন ও আকারভেদে ১২ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। তবে কোটি টাকার এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের জীবনে নেই স্বচ্ছলতার ছাপ। স্থানীয়ভাবে কাঠের সংকট দেখা দেওয়ায় এখন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঠ সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। অন্যদিকে পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে অধিকাংশ কারিগর মহাজনের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে কাজ করেন। ফলে নৌকা বিক্রির বড় অংশ চলে যায় মহাজনের হাতে, আর শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন কারিগররা।
গ্রামের প্রবীণ নৌকা কারিগর তাজুদ আলী বলেন, বাপ দাদার আমল থেকে আমরা এ ব্যবসা চলছে। তবে এখন খরচের পরিমানে লাভ কম। কোনমতে ব্যবসা চলছে। বাপ-দাদার আমলের ঐতিহ্য তো আর ছাড়তে পারিনা। সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিতো আমাদের জন্য সুবিধা হতো।
আরেক কারিগর বলেন, প্রায় ৪৫ বছর ধরে নৌকা তৈরি করছেন। ছোট-বড় নানা ধরনের নৌকা বানিয়ে জীবন কাটিয়ে দিলেও আর্থিক স্বচ্ছলতা এখনো অধরাই রয়ে গেছে তার কাছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঠের সঙ্গে লড়াই করে তৈরি করা নৌকাই তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। তিনিও চান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারিগররা জানান, সহজ শর্তে সরকারি ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও বিকশিত হতে পারে। একই সঙ্গে হাজারো কারিগরের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে বিসিক সুনামগঞ্জের উপব্যবস্থাপক এম.এন.এম. আসিফ বলেন, নৌকা শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের উন্নয়নে বিসিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধাও রয়েছে। ভবিষ্যতে এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com