হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব

আপলোড সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ০৮:১৪:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ০৮:২৪:১৮ অপরাহ্ন
প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন::
বিশ্ববাণিজ্যে, বিশেষকরে জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ পথ। যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ সুয়েজ খাল দিয়ে জ্বালানি তেলের ১০% পরিবাহিত হয়, সেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের প্রায় ২০-২৫% পরিবাহিত হয়ে থাকে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ব্যত্যয় ঘটলে তেলের বিশ্ববাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, অনেক দেশের অর্থনীতিতে পর্যন্ত টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। কেন হরমুজ প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ? সহজ উত্তর এর ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান জানার আগে আমরা একটু জেনে নেই প্রণালি কী। প্রণালি হলো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি সরু জলপথ যা দুটি বৃহৎ জলভাগ, যথা সমুদ্র বা মহাসমুদ্রকে যুক্ত করে এবং একইসাথে দুটি স্থলভাগকে একে অপর থেকে পৃথক করে। এসব প্রণালি সাধারণত জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে জিব্রাল্টর প্রণালি, আন্দামান সাগর ও চীন সাগরকে যুক্ত করেছে মালাক্কা প্রণালি, ভারত ও শ্রীলংকাকে আলাদা করেছে পক প্রণালি। আর হরমুজ প্রণালি? হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে এবং ইরান থেকে আরব উপদ্বীপকে পৃথক করেছে। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালির উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে পারস্য উপসাগর, দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর, উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে ইরানের ভূভাগ, দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে ওমান ও আরব আমিরাতের ভূভাগ। পারস্য উপসার ও ওমান সাগরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথটি। প্রণালিটির স্থানাঙ্ক বরাবর সামান্য পূর্বদিকে ইরানের হরমুজ দ্বীপটি অবস্থিত। হরমুজ নামটি পারস্যের রাজা দ্বিতীয় শাপুরের মা ইফরা হুরমিজদের নাম থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়। রাজা দ্বিতীয় শাপুর ৩০৯ থেকে ৩৭৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পারস্য শাসন করেন। অনেক ভাষাবিদদের মতে, হরমুজ নামটি এসেছে স্থানীয় ফরাসি শব্দ হুর-মঘ থেকে, যার অর্থ খেজুর গাছ। আবার অনেক ইতিহাসবিদের মতে, ১০ম থেকে ১৭শ শতাব্দীতে এখানে হরমুজ রাজ্য ছিল, যেখান থেকে এ প্রণালিটির নাম হয়েছে হরমুজ প্রণালি। হরমুজ প্রণালিটি ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হলেও এর মূল অংশ মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রস্থ কোথাও কোথাও ৯৭ কিলোমিটার হলেও এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। এর গভীরতা ৬০ থেকে ১০০ মিটার, তবে কিছু কিছু স্থানে ২০০ মিটার পর্যন্ত গভীর হতে পারে। একে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারও বলা হয়। আর সেজন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বুঝতে পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান বুঝতে হবে। আয়তাকার আকৃতির পারস্য উপসাগর মূলত ভারত মহাসাগরের একটি অগভীর প্রান্তিক সাগর যা আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্যে অবস্থিত। এই উপসাগরের আয়তন ২৪১০০০ বর্গ কিলোমিটার। উপসাগরটির দৈর্ঘ্য ৬১৫ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ প্রস্থ ৩৪০ কিলোমিটার ও সর্বনি¤œ প্রস্থ ৫৫ কিলোমিটার। এর গড় গভীরতা প্রায় ৩৬ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ১০০ মিটার। পারস্য উপসাগরের পূর্ব উপকূল অর্থাৎ ইরান উপকূল পার্বত্যময়, অন্যদিকে পশ্চিম উপকূল অর্থাৎ আরব উপদ্বীপের অধিকাংশটাই বালুকাময়। তবে হরমুজ প্রণালির নিকটস্থ আরব উপদ্বীপের ওমান অংশও পার্বত্যময়। বিখ্যাত ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর মিলিত ধারা শাত-আল-আরব নামে ইরাকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পারস্য উপসাগরে পতিত হয়েছে। পারস্য উপসাগরের পূর্বদিকে রয়েছে ইরান, উত্তরে ইরাক ও কুয়েত, পশ্চিমে রয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত ও ওমান। অর্থাৎ পারস্য উপসাগরের উপকূলে রয়েছে বিশ্বের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো। আর তাদের তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগর তথা হরমুজ প্রণালি দিয়ে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয় এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে। বিশেষত এশিয়ার চীন, ভারত, বাংলাদেশ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ হরমুজ প্রাণালি দিয়ে আমদানিকৃত তেলের উপর নির্ভরশীল। সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়াতে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো একটি ট্রাফিক বিভাজন পরিকল্পনা অনুসরণ করে। অর্থাৎ জাহাজ চলাচলের জন্য এখানে নির্দিষ্ট দুটি লেন বা পথ রয়েছে, যার প্রতিটি ৩ কিলোমিটার চওড়া। দুটি লেনের মাঝখানে ৩ কিলোমিটারের নিরাপদ অঞ্চল রয়েছে। প্রবেশকারী জাহাজগুলো একটি লেন ব্যবহার করে, বহির্গামী জাহাজগুলো অন্য লেন ব্যবহার করে। হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হলেও এটি বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরান ও ওমান তাদের জলসীমা ১২ নটিক্যার মাইল বা ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত বর্ধিত করায় প্রণালিটির অধিকাংশই ইরান ও ওমানের জলসীমার অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে প্রণালি ও এর নিকটে ইরানের বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে। আর দ্বীপীয় এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারনেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিকটস্থ কৌশলগত ও ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো হলো হরমুজ, লারাক, কেশম, হেঙ্গাম, বৃহত্তর তুনব, ক্ষুদ্রতর তুনব, আবু মুসা, সিরি, জাজিরাত সালামাহ প্রভৃতি। এই দ্বীপগুলো পারস্য উপসার ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং বেশিরভাগই ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দ্বীপগুলো ইরানের অন্তর্গত হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাও সহজ ও যৌক্তিক হয়েছে। সেজন্য আমাদের দ্বীপগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত গুরুত্ব স¤পর্কে জানা দরকার। হরমুজ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দুরে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত। ৪২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি পর্যটন ও সামরিক ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দ্বীপে পর্তুগীজদের নির্মিত একটি প্রাচীন দুর্গ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে একটি আধুনিক জাদুঘর। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে ইরানের লারাক দ্বীপ অবস্থিত। ৪৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট দ্বীপটি বন্দর আব্বাস উপকূল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে ইরানের সামরিক ঘাটি, রাডার স্টেশন ও জাহাজ পর্যবেক্ষণের বাঙ্কার রয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করা ও বাহির হওয়া জাহাজগুলোর জন্য লারাক দ্বীপ গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট বা ট্রানজিট রুট হিসেবে কাজ করে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র দুর্গ হিসেবে পরিচিত কেশম দ্বীপ। পারস্য উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপ এটি এবং ইরানের বৃহত্তম দ্বীপও এটি। ১৪৫৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট ও ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বীপটি ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া দ্বীপটি থেকে ওমানের খাসাব বন্দর ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং আরব আমিরাতের মিনা রশিদ ১৮০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত দ্বীপটি ইরানের সামরিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইরানের বৃহত্তম এই দ্বীপটির ৩০টি গ্রামে লক্ষাধিক লোকের বাস। এখানে রয়েছে নানা ধরনের সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সদা কর্মচঞ্চল দ্বীপটি হরমুজ প্রণালিতে নজর রাখতে, জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সংবেদনশীল এই দ্বীপটির প্রতি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভও বেশি। ২০২৬ সালের ৭ মার্চ ও ৩১ মার্চ তারিখে দু’দফা বিমান হামলা চালিয়ে এর পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টটি ধ্বংস করে দেয়া হয়। তবে ইরান দ্রুতই তা আবার সচল করতে সক্ষম হয়। কেশম দ্বীপের ২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে ইরানের হেঙ্গাম দ্বীপ। ৩৬.৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট দ্বীপটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। বৃহত্তর তুনব ও ক্ষুদ্রতর তুনব দ্বীপ দুটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অত্যন্ত কৌশলগত দ্বীপ। জাহাজ চলাচলের পথেই অবস্থান হওয়ায় দ্বীপগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। বৃহত্তর তুনবের আয়তন ১০.৩ বর্গ কিলোমিটার এবং ক্ষুদ্রতর তুনবের আয়তন মাত্র ২ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্য অঞ্চলটি ত্যাগ করার পর ইরান সামরিক উপায়ে দ্বীপগুলোর দখলে নেয়। এখনো দ্বীপগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে তাদের ছোট্ট বিমান ঘাটি, বন্দর ও সুরক্ষিত সামরিক ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। তবে আরব আমিরাতও দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত গোপন নথি থেকে জানা যায় যে, গত মার্চে আমেরিকা ও ইসরাইল এই দ্বীপ দুটি দখলের জন্য আরব আমিরাতকে প্ররোচিত করেছিল, যদিও আরব আমিরাত তাদের সে প্ররোচনায় সাড়া দেয়নি। উল্লেখ্য যে, হরমুজ প্রণালিতে কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখতে ভৌগোলিক কারণেই তুনব দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ হলো আবু মুসা। হরমুজ প্রণালির ঠিক মুখের কাছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে দ্বীপটির অবস্থান। ১২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট আবু মুসা দ্বীপে ইরানের শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদ। পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একে ইরানের প্রথম সারির প্রতিরক্ষা বর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উল্লেখ্য যে, দ্বীপটি ইরানের মূল ভূখ- থেকে ৭৫ কিলোমিটার ও আরব আমিরাতের মূল ভূখ- থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বৃহত্তর তুনব দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, হরমুজ দ্বীপ ও আবু মুসা দ্বীপের সাথে মিলে ইরান তার খিলান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আর্চ-ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তুলেছে। ১৭.৩৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সিরি দ্বীপ পারস্য উপসাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইরানি দ্বীপ। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রে সিরি দ্বীপ ইরানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে একটি ছোট্ট বিমানবন্দরও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনীতি ও সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালির এই দ্বীপগুলো বিশ্ববাণিজ্যের নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে আমেরিকা-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধে এবং ২০২৬ সালে আমেরিকা-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধে এই প্রণালিটি যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। বিশ্ব জ্বালানির ২০-২৫% হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইরান, আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক, কাতার এই জলপথ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকে। তন্মধ্যে জলপথে বর্হিবিশ্বের সাথে যোগাযোগের জন্য কুয়েত, আরব আমিরাত, ইরাক ও কাতারের পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। আবার মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ থেকে আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো তেল ও গ্যাস আমদানি করে থাকে। তন্মধ্যে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য কোনটি? এই প্রশ্নের সু®পষ্ট উত্তর খনিজ তেল। খনিজ তেলের উৎপাদন, পরিবহন, বাণিজ্য ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্বে যত আলোচনা হয়, যুদ্ধ বা সন্ধি হয়, আর কোন পণ্য নিয়ে তার অর্ধেক আলোচনাও হয়না। আর এই তেল পরিবহনে হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে এর ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি বাণিজ্যিক গুরুত্বও অনস্বীকার্য।
[লেখক- প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ]

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com