ছাতক প্রতিনিধি ::
ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মরা চেলা নদীর তীরবর্তী একটি পুকুর ও কৃষিজমি থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে তিন রাতে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির মালিক শাহীন মিয়া। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নৌ-পুলিশের কাছেও প্রতিকার চেয়ে পৃথক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী শাহীন মিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পাথারীপুর গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে। অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে গণেশপুর নোয়াগাঁও গ্রামের দুলু মিয়া, আলাল হোসেন, বাবুল মিয়া, ইমন মিয়া ও আনোয়ার পাশাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের ফকিরটিলা মৌজার জে.এল. নং-৭১, খতিয়ান নং-৩৯৫৬, দাগ নং-১২৩-এর প্রায় ৬ একর পুকুর ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে শাহীন মিয়া ও তার সহ-শরিকরা মৌরসি স্বত্বে ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু চক্র ওই জমি থেকে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে গত ২৮ জুন দিবাগত রাত থেকে পরিকল্পিতভাবে বিপুলসংখ্যক লোক নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন শুরু করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন প্রতিদিন রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত লোকজন জমিতে প্রবেশ করে গভীর গর্ত খননের মাধ্যমে নৌকাযোগে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে নিয়ে যায়। এ সময় জমির মালিক ও স্থানীয়রা বাধা দিলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিন রাতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে জমিতে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সালিশ চলাকালীন অভিযুক্তরা বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। যাওয়ার সময় আইনগত ব্যবস্থা নিলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় গত বৃহ¯পতিবার দুপুরে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ছাতক নৌ-পুলিশের কাছেও পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।