বিশ্বম্ভরপুরে উড়াল সড়ক প্রকল্পের কাজ

বিকল্প পথ ছাড়াই ভাঙা হল ব্রিজ-কালভার্ট : ৭ কিলোমিটার সড়কে ভোগান্তি

আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৬ ১০:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৬ ১১:০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
হাসান বশির::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পুরানগাঁও থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক প্রকল্পের কাজে চরম জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা বা ডাইভারশন নির্মাণ ছাড়াই একটি ব্রিজ ও দুটি কালভার্ট ভেঙে ফেলায় প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরানগাঁও থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় একটি ব্রিজ ও দুটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হলেও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যাতায়াত পথ তলিয়ে গেছে এবং অনেক স্থানে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সুনামগঞ্জ শহরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়ন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, বাদাঘাট বাজার এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন মিয়া বলেন, ধনপুর ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ সুনামগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল আলম সাগর বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রকৌশলী রজত কান্তি দাস বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, স্থানীয় মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা জেনেছি। দ্রুত বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও পরিকল্পনার অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষকে অযাচিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত ডাইভারশন নির্মাণ ও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জ শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com