হাসপাতালের মূল ভবন বুঝে নেয়ার চিঠি দিলেও গ্রহণ করছেনা কর্তৃপক্ষ

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের দশম দিনের কর্মসূচিতে সড়ক অবরোধ

আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০২:০০:১৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০২:০০:৪১ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
প্রায় ২ মাস আগে চিঠি দিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মূল ভবন গ্রহণের অনুরোধ জানালেও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবন রিসিভ করতে চাচ্ছেনা। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত না পেলে গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে। এদিকে হাসপাতাল চালু ও নিজ হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ক্লাস চালুর দাবিতে দশম দিনের মতো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার আন্দোলনের দশম দিনে এসে তারা টানা দুই ঘণ্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের মদনপুর পয়েন্টে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ে সুনামগঞ্জ সিলেট, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুই ঘণ্টা পর আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন জেলার সকল পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতা। সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ মাস আগে মেডিকেল কলেজের মূল হাসপাতাল ভবনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ভবনটি বুঝে নেওয়ার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ভবনটি যে পর্যায়ে আছে চালু হলে অনায়াসেই ক্লিনিক্যাল ক্লাস চালু সম্ভব। বর্তমানে ভবনটিতে চুরি ঠেকাতে ১২ জন লোক পাহারায় আছে। তারপরও ঈদের সময় ফিটিংসের জিনিসপত্র চুরি হয়। অপরদিকে, ভবন বুঝে না নেওয়ায় প্রায়ই চুরি হচ্ছে। এ কারণে ফিটিংসের কিছু সামগ্রী স্থাপন করছেনা গণপূর্ত বিভাগ। কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে নেওয়ার বিষয়টি জানালেই ফিটিংসের ওই সামান্য কাজ এক সপ্তাহে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৪ সালে কলেজ ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কলেজে ৬টি ব্যাচ পাঠ গ্রহণ করছে। তবে একাডেমিক ভবনে কেবল থিউরিটিক্যাল ক্লাস হলেও প্রাকটিক্যাল ক্লাস করার সুযোগ না থাকায় ২০২৫ সালে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। তাদের টানা আন্দোলনের ফলে কর্তৃপক্ষ জেলা সদর হাসপাতালে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের সুযোগ করে দেয়। তখন ১ বছরের মধ্যে হাসপাতাল চালু ও নিজ হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবি জানিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা। গত মাসে তাদের এক বছরের আন্দোলনের আল্টিমেটাম শেষ হয়েছে। এর মধ্যে নানা আবেদন-নিবেদন করেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় গত ২১ জুন থেকে হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ৩০ জুন আন্দোলনের নবম দিনে এসে তারা সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধকালে সড়কে হাজার হাজার যান আটকা পড়ে। তীব্র যানজটের কারণে দুর্ভোগে পড়েন চারটি উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী। পরে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার সকল পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সংহতি জানিয়েছেন। গত ২৪ জুন জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন মিলন আন্দোলনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সংসদকে অবগত করেন। আগামীর চিকিৎসকদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী আকসা চৌধুরী বলেন, আমাদের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে। আমরা নিজ হাসপাতালে ওয়ার্ড ক্লাস পাইনি। ইন্টার্নশিপেরও ব্যবস্থা নেই। সদর হাসপাতালে আমাদের ওয়ার্ড ক্লাসের সাময়িক সুযোগ করে দিলেও দূরে থাকায় আসতে যেতেই আমাদের সময় চলে যায়। ১৫-২০ মিনিটে আমরা কিছুই শিখতে পারছিনা। অথচ চিকিৎসক হওয়ার জন্য ক্লিনিক্যাল ক্লাস অপরিহার্য। ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফজলে ফারিয়া সিনথিয়া বলেন, ক্যাম্পাসে আমাদেরও সময় শেষ হয়ে আসছে। এখনো নিয়মিত স্বাভাবিক ওয়ার্ড ক্লাসের সুযোগ পাচ্ছিনা। আমরা মেডিকেলে পড়েও দেশের বোঝা হতে চলেছি। কারণ হাতে কলমে না শিখলে আমরা পরবর্তীতে সেবা দিতে পারবনা। পিছিয়ে থাকবো। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমরা ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে রাজপথে টানা আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মোরশেদ আলম বলেন, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ন্যায্য। এ কারণে আমরা আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছি। দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি চালু করে জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি আগামীর চিকিৎসকদের ওয়ার্ড ক্লাসের ব্যবস্থা করা হোক। সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রসেনজিত দে বলেন, প্রায় ২ মাস আগে আমরা হাসপাতালের মূল ভবনের কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষকে বুঝে নেওয়ার চিঠি দিয়েছি। তারা কোনও সাড়া দিচ্ছেন না। ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার সব প্রস্তুতি আমাদের শেষ। বরং এখন ১২ জন লোক রেখে আমাদেরকে ভবন পাহারা দিতে হচ্ছে। তারপরও চুরি হয়ে যাচ্ছে ফিটিংস সামগ্রী। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ ভূইয়া বলেন, শিক্ষার্থী একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ রেখে গত ২১ জুন থেকে হাসপাতাল চালুর দাবিতে আন্দোলন করছে। আমরা তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন অবগত করছি। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। এরপর সড়কের উভয় পাশে আটকে পড়া যানবাহনগুলো চলাচল করতে শুরু করে। প্রচ- রোদে ভোগান্তিতে ছিলেন যাত্রীরা। খন সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দুই বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে স্থায়ী ক্যা¤পাসে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কলেজে পাঁচটি ব্যাচে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী আছেন। কলেজে ৯৪ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ৫২ জন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com