সমাবেশ-গণমিছিল-স্মারকলিপি, জেলা সদরে সুবিপ্রবি’র স্থায়ী ক্যাম্পাস চাই

আপলোড সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ১২:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ১২:৪৪:১৩ পূর্বাহ্ন
জালাল উদ্দিন নাসিম::
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের আশপাশে সকল উপজেলার জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে সুনামগঞ্জ শহরে সমাবেশ, গণমিছিল এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কর্মসূচিতে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
রবিবার বেলা ১১টা থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে সমবেত হন। পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন-এর সদস্য সচিব মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন সুজন ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রবিউল লেইস রোকেশ, শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, লেখক সুখেন্দু সেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল, জেলা সুজনের সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী, শিক্ষক কানিজ সুলতানা, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের জেলা সভাপতি আবু নাছার আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উচ্চশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি জেলা সদরের নিকটবর্তী এমন স্থানে প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে জেলার সব উপজেলার শিক্ষার্থীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রস্তাবিত স্থান নির্ধারণ করায় জেলার অধিকাংশ মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত দেখার হাওর জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর। এই হাওর সদর, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এবং এখানেই বিপুল পরিমাণ বোরো ধান ও দেশীয় মাছ উৎপাদিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ হলে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পানি প্রবাহ, কৃষি উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, পানি নিষ্কাশনে সংকট এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের পাশে ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। একই এলাকায় আরও একটি বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হলে জনসংখ্যার চাপ ও যানবাহনের চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনেরা জেলা শহরের নিকটবর্তী নন-হাওর এলাকায় ক্যাম্পাস নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

সমাবেশে বক্তারা সদর উপজেলার যুগীরগাঁও মৌজার জে.এল. নং-১১৩-এর সরকারি খাসজমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাদের দাবি, সেখানে প্রায় ২১৮ দশমিক ৫৯ একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হলে জমি অধিগ্রহণে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে এবং জেলার সব উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি হবে অধিকতর সুবিধাজনক। সমাবেশ শেষে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন মঞ্জুর চৌধুরী ও সদস্য সচিব মোনাজ্জির হোসেন সুজনের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে আইনের ৩(১) ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে ‘দেখার হাওর পাড়’ নির্ধারণ করায় শুরু থেকেই জেলার মানুষের আপত্তি রয়েছে।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টি জেলা সদরে স্থাপন করা হলে সমগ্র জেলার মানুষ সমানভাবে উপকৃত হবেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে জেলার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল। ফলে জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলার মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকারের বৈষম্যহীন উন্নয়নের অঙ্গীকারের আলোকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত দেখার হাওর জেলার অন্যতম বৃহৎ কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন এলাকা। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হলে হাওরের পরিবেশ, কৃষিজমি, পানি প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, নতুন স্থান নির্বাচন এবং অধিগ্রহণের বিধিগত প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
কর্মসূচিতে সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পঞ্চাশহাল মৌজায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। এমন সিদ্ধান্তে ফুঁসে ওঠেন জেলাবাসী। তারা এর প্রতিবাদে মানববন্ধন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। এক পর্যায়ে শান্তিগঞ্জের পঞ্চাশহাল মৌজায় সুবিপ্রবি’র স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com