জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ::
জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাণীগঞ্জ কলেজে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সামনেই শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কলেজের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কলেজের শিক্ষকরা যদি মারামারি করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা কোন পথে যাবে এ নিয়ে অভিভাবকরা মন্তব্য করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, রাণীগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউর রহমান ঠাকুরের বিরুদ্ধে রেজ্যুলেশন জালিয়াতি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়া, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও কলেজ গভর্নিংবডির কমিটি না থাকাসহ শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ে কলেজের একাংশ শিক্ষক প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। আরেক অংশের শিক্ষক অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ নিয়ে কলেজে শিক্ষকরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কলেজে গিয়ে গভর্নিংবডির কমিটি সংক্রান্ত আলোচনা করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউর রহমান ঠাকুরের সঙ্গে। এ সময় অধ্যক্ষের আচরণে ক্ষুব্ধ হন প্রতিবাদী শিক্ষকেরা। এক পর্যায়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনেই দুই পক্ষের শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়টি নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউর রহমান ঠাকুরের বিরুদ্ধে হাজী চান মিয়া, কয়েছ উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম, আল-আমিন, কাওছার মিয়া মেম্বার, নিজাম উদ্দিন জালালী, ময়ূর মিয়া, মিজানুর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া পৃথকভাবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন কলেজের প্রতিবাদী শিক্ষক আবু খালেদ, সাইদুর রহমান ও মিছলুর রহমান।
এ বিষয়ে জানতে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাণীগঞ্জ কলেজে গেলে অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।