আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে

আপলোড সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ১০:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ১০:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পাখিজান গ্রামে মাদক কারবারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং তাকে মারধরের ঘটনা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগ সত্য কিংবা মিথ্যা যাই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিভিন্ন স্থানে ‘মব জাস্টিস’-এর নামে সংঘটিত ঘটনাগুলো আইনের শাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা গ্রহণের নির্দেশনা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আদালত যথার্থভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিচার করা রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব। বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে জনতার হাতে শাস্তি প্রদান শুধু বেআইনি নয়, এটি সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকারেরও সু¯পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার দিয়েছে। একজন ব্যক্তি যত গুরুতর অভিযোগেরই মুখোমুখি হোন না কেন, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা শাস্তি দেওয়া যায় না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উত্তেজনা কিংবা জনমতকে পুঁজি করে অনেক সময় আইনকে উপেক্ষা করে তাৎক্ষণিক প্রতিশোধমূলক কর্মকা- সংঘটিত হচ্ছে। এর ফলে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্বম্ভরপুরের ঘটনাটি আরও উদ্বেগের কারণ এই যে, পুরো ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। অর্থাৎ অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে জড়িতদের মধ্যে কোনো ধরনের আইনি ভয় বা দায়বদ্ধতার বোধ কাজ করেনি। এটি সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বিপজ্জনক লক্ষণ। যদি এমন প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে আরও মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত হতে পারে। মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ সমস্যা। মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। তবে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হতে হবে। অন্যথায় অপরাধ দমনের নামে নতুন অপরাধের জন্ম হবে, যা সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা বাড়াবে। আমরা আশা করি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আদালতের মাধ্যমেই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে; জনতার বিচারের মাধ্যমে নয়। আইনের শাসনই সভ্য সমাজের ভিত্তি। সেই ভিত্তিকে দুর্বল করার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com