স্টাফ রিপোর্টার ::
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাধাগোবিন্দ মন্দিরে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহের প্রতি অবমাননা ও সারাদেশে মন্দির গুড়িয়ে দেয়ার হুমকির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। শনিবার সকালে শহরের আলফাত স্কয়ারে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে এবং কয়েক শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিমান কান্তি রায় এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, মতিলাল চন্দ, হিমাদ্রী রায়, অ্যাডভোকেট কুশল রাজ পাল, জীবন কৃষ্ণ দাস, স্বপন কুমার বর্মণ, সুরঞ্জিত চৌধুরী, ডা. বিজন কান্তি দে, সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন, রিপন বৈদ্য, রিংকু চৌধুরী, বিজন সরকার ও প্রীতম সাহা।
কর্মসূচিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি সনাতন ধর্ম কমপ্লেক্সে ৮১ ফুট উচ্চতার শ্রী রামচন্দ্রের বিগ্রহ নির্মাণকাজ চলছিল। কিছু গোষ্ঠীর বিরোধিতা ও হুমকির মুখে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। বক্তারা আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের একটি চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক শক্তি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহ ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকা- কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
বক্তারা অনতিবিলম্বে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং এই অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে দেশের সকল অসাম্প্রদায়িক নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশে সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রদীপ কুমার চৌধুরী আচল, সুপন সেনগুপ্ত, বিপ্লব দেব, ঝন্টু দাস, দেবব্রত দাস, পংকজ কুমার দে, অ্যাডভোকেট রাধাকান্ত সূত্রধর, অংশু সেন, দীপক চৌধুরী, অভিজিৎ চৌধুরীসহ কয়েক শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী।