গণতন্ত্রে সময়, জবাবদিহি ও জনআস্থার গুরুত্ব

আপলোড সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ১২:২১:৩৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ১২:২১:৩৩ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজারে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা সরকারকে সময় দিতে চায় না, তারা জনগণের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তিনি দাবি করেছেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সেই সময় প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকারের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সরকার তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় পাওয়ার অধিকার রাখে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে ম্যান্ডেট প্রদান করে, তার প্রতি সম্মান দেখানো গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র শুধু মেয়াদ পূরণের বিষয় নয়; এটি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং সমালোচনা গ্রহণের সংস্কৃতিরও নাম। বিরোধী মত, সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকা- নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে সবসময় নেতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী পক্ষ উভয়েই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ঋণ মওকুফ, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানিভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেছেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে - এতে সন্দেহ নেই। তবে এসব কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে সুশাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। জনগণ শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়। অর্থ পাচার রোধ এবং দেশের স¤পদ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী করেছেন, সেটিও সময়োপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে অর্থ পাচার, দুর্নীতি এবং স¤পদের অসম বণ্টন দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান হলে উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভাজন, সংঘাত এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে প্রয়োজন জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া। সরকারকে যেমন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক হতে হবে, তেমনি বিরোধী পক্ষকেও গঠনমূলক সমালোচনা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের মালিক জনগণ - প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন বা রাষ্ট্রীয় অগ্রগতি টেকসই হতে পারে না। তাই আগামী দিনের রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণকেন্দ্রিক। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকুক, কিন্তু তা যেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী না হয়। জনগণ সরকারকে সময় দিয়েছে - এ কথা যেমন সত্য, তেমনি জনগণ সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের অধিকারও সংরক্ষণ করে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে। অতএব, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com