সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ফসল। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং জেলার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে কেন্দ্র করে আলোচনার পরিবর্তে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে স্থায়ী ক্যা¤পাসের অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঘিরে নানা বিতর্ক।
গত বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে সুবিপ্রবি’র উপাচার্য অপসারণ এবং স্থায়ী ক্যা¤পাস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ‘সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন আন্দোলন’। স্মারকলিপিতে প্রশাসনিক অদক্ষতা, নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং স্থায়ী ক্যা¤পাসের স্থান নির্ধারণে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা অবশ্যই উদ্বেগজনক। আবার অভিযোগের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো পক্ষের দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই বিষয়গুলোর নি®পত্তি হওয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস কোথায় হবে, তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়; এটি হতে হবে জনস্বার্থ, পরিবেশ, যোগাযোগব্যবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার আলোকে গৃহীত একটি সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। সেই ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোনো স্থান অধিক উপযোগী হয়, তবে তা বিবেচনায় নিতে হবে। আবার যদি শান্তিগঞ্জে স্থাপনের পক্ষে যথাযথ কারিগরি ও পরিকল্পনাগত যুক্তি থাকে, তবে সেটিও জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশগত বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি সুনামগঞ্জের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন যথাযথভাবে স¤পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা অপরিহার্য।
সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত করা উচিত নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি, দল বা এলাকার নয়; এটি পুরো জেলার স¤পদ। তাই স্থায়ী ক্যা¤পাস নিয়ে চলমান মতপার্থক্যের দ্রুত সমাধান, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সর্বপক্ষের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। আর নতুন কোনো বিতর্ক নয়, তারা দেখতে চায় দ্রুত বাস্তবায়িত একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় - যেখানে শিক্ষার মান, গবেষণার উৎকর্ষ এবং জেলার উন্নয়নই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।