স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) পরিবর্তনের দাবিতে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে ‘সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন আন্দোলন’। দাবি বাস্তবায়ন না হলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের সদস্য সচিব মোনাজ্জির হোসেন সুজন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সুনামগঞ্জে একমুখী উন্নয়নের বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। জেলার বৃহত্তর স্বার্থ উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট এলাকা ও মৌজাকেন্দ্রিকভাবে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে জেলা সদরের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস জেলা শহরের আশপাশে সকলের জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এ দাবির প্রতি দায়িত্বশীলমহল সংহতি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নতুন সিন্ডিকেট গঠনের ক্ষেত্রে জেলা সদর আসনের সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা জেলা সদরবিমুখ মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস জেলা সদরের বাইরে স্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করা, প্রশাসনিক অদক্ষতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত বারবার পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে জেলা সদরকে উপেক্ষা করা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেলার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস জেলা সদরে বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট সদর উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাসও জেলা সদরে স্থাপন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১০ দিনের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে উপাচার্যের মাধ্যমে পরিচালিত সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অনশন কর্মসূচিসহ কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রবিউল লেইস রোকেশের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সদস্যসচিব মো. রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈয়বুর রহমান বাবুল, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, লেখক-কবি সুখেন্দু সেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব বদরুল কাদির শিহাব, অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ, অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান শামীম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহীন প্রমুখ।