সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিসংখ্যানগত এই অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনমান ও ক্রয়ক্ষমতায় কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৩ হাজার ২০ ডলার। এর আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক গতি ফিরে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের তুলনায় বেশি।
বর্তমান বাজারমূল্যে দেশের অর্থনীতির আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। আগের অর্থবছরে অর্থনীতির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকা ইতিবাচক সংকেত। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়ানো এবং অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করাও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি বা জিডিপির আকার বড় হওয়াই যথেষ্ট নয়। আয় বৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোই হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবের এই তথ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হলেও এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মাধ্যমে।