ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই ক্বারীর বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজনদের কিল-ঘুষি ও মারধরে চা বিক্রেতা নাসিম মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। পরে ওইদিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বাড়ি উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই মড়লবাড়ি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মঞ্জুরুল হকের ছেলে।
ধর্মপাশা থানা,পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুনই মড়লবাড়ী গ্রামের নাসিম মিয়ার (৩৫) স্থানীয় সুনই ক্বারীর বাজারে একটি চা স্টল রয়েছে। তার সঙ্গে পাশের সুনই বাগবাড়ি গ্রামের আনু মিয়ার (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সুনই ক্বারী বাজারে আছিয়া খাতুনের (৫২) চায়ের স্টলে বসে নাসিম মিয়া (৩৫), আনু মিয়া (৩৫), লিটন মিয়া (৪৫), জিকু মিয়া (৪৭)সহ ৮ থেকে ১০জন বসে চা খাচ্ছিলেন। আনু মিয়া (৩৫) ও নাসিম মিয়ার (৩৫) মধ্যে চা খাওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আনু ও তার বড়ভাই লিটন মিয়া (৫০) এই দুইজনে মিলে নাসিমকে চায়ের স্টল থেকে টেনে বের করে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করলে নাসিম গুরুতর আহত হন। ওইদিন সকাল ১০টার দিকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাসিম মারা যান।
মারধরে নিহত নাসিম মিয়ার বড় ভাই আল আমিন (৫০) অভিযোগ করে বলেন, সুনই মড়লবাড়ি গ্রামের লাল মিয়া (৭০), তার ছেলে মো. অলি (৪০) ও মেহেদী হাসান ডালি (৩৪), সুনই বাগবাড়ি গ্রামের আনু মিয়া (৩৪), লিটন মিয়া (৫০), সপু (৩০)সহ ৮ থেকে ১০জন মিলে আমার ভাইকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে প্রাণে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করবো।
আনু মিয়া ও লিটন মিয়া পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মেহেদী হাসান ডালি ও মো.অলি জানান, এলাকায় তাদের সুনামকে ক্ষুণœ করার জন্য তার বৃদ্ধ বাবা লাল মিয়া ও তাদের দুইভাইকে জড়িয়ে মিথ্যে অপবাদ রটানো হচ্ছে।
ধর্মপাশা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই কিল-ঘুষি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ব্যবসায়ী নাসিম মিয়ার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।