দেড় কোটি টাকা বরাদ্দের খাল খননে দুর্নীতির অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ০৮:২৯:১০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ০৮:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দের খালের খননকাজ প্রাক্কলন অনুযায়ী না করে বরাদ্দ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। জাইকার অর্থায়নে সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছর কর্তৃক ক্ষুদ্রাকার পানি উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) জালালপুর উপ-প্রকল্পের ডাইকের খাল খননে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সমবায় অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সমবায় সমিতি ‘জালালপুর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সমবায় সমিতি’র নামে মনগড়া কমিটি করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ডাইকের খাল খননে ১১টি উপ-প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সমিতির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য রওশনআরা বেগম ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হকের নির্দেশে এক পরিবারের ও পছন্দের লোকদের নিয়ে কমিটি করেন। তারা কাজ বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সুবিধাভোগী মানুষদের মধ্যে নিজেদের পছন্দের শ্রমিকদের তালিকা করে ১১টি করে মনগড়াভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। এলাকার সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও সমবায় সমিতির লোকজন নিজেদের মতো নামকাওয়াস্তে কাজ শুরু করেন। নিজেদের পছন্দের শ্রমিক থাকায় খনন, বৃক্ষ রোপণ, বøক নির্মাণ যাচ্ছেতাইভাবে বাস্তবায়িত হয়। এতে প্রাক্কলন মানা হয়নি এবং অভিজ্ঞ কৃষকদেরও মতামত নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। চুক্তি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টরাই বাইরের শ্রমিক দিয়েও কাজ করান এমন অভিযোগও আছে। এলাকাবাসী জানান, এলাকার পানি নিষ্কাশন, মৎস্য ও কৃষির উন্নয়নে জাইকা বাংলাদেশ সরকারকে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ খাল খননের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু প্রকল্পে যুক্ত লোকজন খালের তলদেশ খনন না করে দুই তীরের মাটি কেটে প্রস্থ দেখিয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করেন। তাছাড়া প্রকল্পে ৬ কিলোমিটার খাল খনন করার কথা থাকলেও নামকাওয়াস্তে ৩ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। কিন্তু পুরো প্রকল্পেরই বরাদ্দ উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ক্ষুদ্রাকার পানি উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তদারকিও যথাযথ হয়নি। যার ফলে কাজ শুরু থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শেষ হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ আছে। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগকারী সেলিম আহমদ বলেন, শুরু থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। পছন্দের লোক দিয়ে বিনানির্বাচনে সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। পরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১১টি উপপ্রকল্পে মনগড়া ১১টি কমিটি করা হয়েছে যারা সবাই একই পরিবার ও গোত্রের। পরবর্তীতে বাস্তবায়কারী শ্রমিকদের যে তালিকা করা হয়েছে সেটা পছন্দের শ্রমিক দিয়ে করা হয়েছে। যারা কাজ না করলেও কাগজে কলমে তাদের নামেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা আফরোজ রায়হান বলেন, শহিদ কৃষক নেতা আজাদ মিয়া এই এলাকার কৃষি, মৎস্য উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য খালটি খননে নানা দফতরে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি হাওরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করা হয়। পরে যখন বরাদ্দ আসে তখন চেয়ারম্যান ও মেম্বার মিলে নিজেদের গোত্রের লোক দিয়ে প্রকল্পটি নামমাত্র বাস্তবায়ন করে বরাদ্দ লোপাট করান। যে লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা সেই লক্ষ্য পূরণ করা হয়নি।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে নানা ঝামেলা হচ্ছে। তবে জাইকার কাজ হওয়ায় কোনও অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। খননকাজ শেষ হলেও এখনো অফিসের কাজ চলমান আছে বলে জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com