1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দুর্নীতি নির্মূলে বজ্র আঁটুনি ফসকা গিরোর কোনও স্থান নেই

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪

গণমাধ্যমান্তরে প্রকাশ, “ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আব্দুস সবুর ম-ল, বিপিএএ সেমিনারে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবা শতভাগ ঝামেলাহীন হতে হবে। ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কর্মকর্তাদের স্মার্ট ভূমি সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করতে হবে।”
আমাদের বক্তব্যটুকু পরিবেশনের খাতিরে গত মঙ্গলবারে (৯ জুলাই ২০২৪) দেওয়া ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব)-এর বক্তব্যের ভেতর থেকে এর বেশি কীছু উদ্ধারের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কারণ তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত নীতিটুকু যথাযথভাবে প্রতিপালিত হলেই অন্তত দেশের ভেতরে ভূমি সংক্রান্ত ঝামেলার অবশ্যই শতভাগ না হলেও বিরাটভাগের অবসান ঘটবে বলে অভিজ্ঞমহলের ধারণা।
বিদগ্ধজনেরা মনে করেন, প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এই নীতি কার্যকর করা আবশ্যক। কিন্তু কেউ কেউ আবার মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রেখে এমন নীতিÑ “ভূমি সংক্রান্ত সেবা শতভাগ ঝামেলাহীন হতে হবে। ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কর্মকর্তাদের স্মার্ট ভূমি সেবা দেওয়ার জন্য”Ñ কখনওই কার্যকর হবে না, বরং বেড়ায় ধান খাওয়ার প্রাচীন কাহিনী তৈরি হতে থাকবে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে যেমন অতীতে হয়েছে তেমনিই হবে, লোকে যাকে বলে, ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী’র চিরন্তন কাহিনী রচিত হয়েই চলবে। এখানে ধর্মের কাহিনী বলতে বুঝতে হবে নীতির কাহিনী। লোকে মনে করেন, প্রাশাসনিক দুর্নীতিকে ছাড় দেওয়া চলবে না। ঘোষিত সরকারি নীতিও তাই। জনসাধারণও তাই মনে করেন। এভাবে সর্বসম্মত অভিমত এই যে, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের চাকরিচ্যুত করা ও তাদের নিজের ও নিকটাত্মীয় স্বজনদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। তদুপরি বিদেশে পাচার করা সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশে বর্তমানে যারাই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, তাদের সম্পদের উৎস সন্ধান করলে দুর্নীতিকেই পাওয়া যাবে। তারা দুর্নীতিবাজ নন এই অর্থে যে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ দৃশ্যমান নয়। দেশে কালো টাকাকে সাদা করার নীতিকে আপাতত ভুলে গিয়ে বলছি, সরকারের উচিত স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্যসহনশীলতার নীতি’ যথাযথভাবে কার্যকর করা, যা সরকারিভাবে ঘোষিত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ‘বজ্র আঁটুনি ফসকা গিরো’র কোনও স্থান নেই। মনে রাখতে হবে ফসকা গিরোর বদৌলতে দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, দ-স্বরূপ গারাগারে পাঠানো, আত্মীয়-স্বজনের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তির হিসাব নেওয়া ইত্যাদি করণীয় কাজ বাদ পড়ে না যায়। তা হলেই কেবল কার্যকরভাবে প্রশাসনিক দুর্নীতি নির্মূল করা যাবে। যদিও কেউ কেউ বলেন, আর্থসামজিক ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে লাভের গুড় ছড়িয়ে রেখে দুর্নীতিকে কখনওই নির্মূল করা যাবে না। এই প্রেক্ষিতে তাদের চূড়ান্ত দাবি, ‘সমাজ থেকে ব্যক্তিমালিকানার অধিকার তুলে দিতে হবে’। যদিও কেমন জানি বিদঘুটে শোনায়, কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে এটাই আসল সত্যি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com