1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জলাবদ্ধতাসঞ্জাত বন্যা নিরসনের একটাই উপায়- আর্থসামাজিক ব্যবস্থার বদল

  • আপডেট সময় রবিবার, ৭ জুলাই, ২০২৪

গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে যে, ‘ত্রাণ চাই না, বন্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধান চাই’-এই আওয়াজ তোলে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের আলফাত চত্বরে বিশ্বজন রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, এ সংগঠনটি কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়। কে বা কারা বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধানের জিগির তোলেছে বিশ্বব্যাংক কিংবা কোনও সাম্রাজ্যবাদী সংঘের পরামর্শনির্ভর বাংলাদেশের মতো দেশে সেটা কোনও বড় কথা নয়। আসল কথা হলো, দেশ এভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। ঔপনিবেশিক ও উত্তর-ঔপনিবেশিক কাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুড়ে অর্থাৎ আজ অবধি আমাদের দেশ আমাদের স্বার্থবুদ্ধিতে নয় সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থবুদ্ধিতে চলছে বা চলতে বাধ্য করা হয়েছে ও হচ্ছে। এতে করে দেশের স্বার্থ উদ্ধার না হলেও কার্যত বিদেশি সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ ঠিকই উদ্ধার হয়েছে। তারা এই দেশে শর্তাধীন অর্থসহায়তা করেছে, লগ্নিকৃত টাকার কয়েকগুণ বেশি লাভ লুটে নিয়েছে, উন্নয়নের নামে কার্যত অনুন্নয়নের তলানিতে নামিয়ে দিয়েছে দেশকে এবং নিয়ন্ত্রণের লাগাম পরিয়ে দিতে পরেছে দেশের মুখে। সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসারে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে মার্কিন সাহায্য (যে-সাহায্যকে ‘তথাকথিত’ বিশেষণে বিভূষিত করাই সঙ্গত) ও বিনিয়োগ আসলে পুঁজিবাদী দেশগুলোর স্বার্থোদ্ধারই করে এবং প্রকারান্তরে বাঁচিয়ে রাখে বিশ্বজুড়া পুঁজির কেন্দ্রগুলোকে ও বিশেষ করে আমেরিকার অর্থনীতিকে। বিশ্বের গরিব দেশগুলোতে বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বাধীন দাতাদেশগুলোর অর্থ-সহায়তার কাজ একটাই, আর সেটা হলো মার্কিন আধিপত্য নিশ্চিত করা, সাম্রাজ্যবাদের শক্তি বাড়ানো।

পদ্মাসেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থসহায়তা প্রদান ও গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হওয়ার লোভসঞ্জাত ইউনুসকাণ্ডের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ-সহায়তা প্রত্যাহার সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশ নিয়ন্ত্রণের সেই আদি অকৃত্রিম প্রবণতা বা অপর দেশকে সাম্রাজ্যবাদের তথা মার্কিনিদের তাঁবেদার দেশে পরিণত করে রাখার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই তো গত শুক্রবারে (৫ জুলাই ২০২৪) গণমাধ্যমান্তরে ইউনুস ও সাম্রাজ্যবাদের গাঁটছড়া সংক্রান্ত একটি মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যে বড় দেশ তাকে (ইউনুসকে) প্রমোট করে, সেই দেশের অ্যাম্বাসেডর আমার অফিসে আসে। আমার অফিসারদের ধমকায়, বলেÑ এমডি পদ না থাকলে এই টাকা (পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ প্রস্তাব) বন্ধ হয়ে যাবে।’ এবং তৎপর সর্বজনবিদিত ঘটনা এই যে, ঘটনাক্রমে বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। যদিও পদ্মাসেতু করতে আমরা আটকে থাকিনি।

অভিজ্ঞমহলের ধারণা এই যে, সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক তৃতীয় বিশে^র গরিব দেশ নিয়ন্ত্রণের ফাঁদে বাংলাদেশ আগেও ছিল এখনও আছে। তারই ধারাবাহিকতায় যেমন পদ্মাসেতু নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয় তেমনি, তেমনি উপেক্ষা করা হয় বন্যানিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়নের কার্যক্রমকে। পদ্মাসেতুর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়টি জনসমক্ষে দৃশ্যমান হয়েছে কিন্তু বন্যানিয়ন্ত্রণে অব্যাহত উপেক্ষা স্বরূপ প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি একরকম অদৃশ্যই থেকে গেছে। সেটাকে বুঝতে হলে এতোদিন যাবৎ গড়ে তোলা সমাজসাংস্থিতিক (সামাজিক, রাজনীতিক ও আর্থনীতিক) ব্যবস্থাটিকে বুঝতে হবে। অর্থাৎ এখনও কার্যত আমাদের আর্থনীতিক ও রাজনীতিক কর্মকা-কে নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। নদী-খাল খননের যতোই দাবি তোলা হোক না কেন, খননক্রিয়া সম্পন্ন করে পাহাড় থেকে নেমে আসা জল দক্ষিণে সরে যাওয়ার পথ তৈরি করা হবে না কীছুতেই, বরং বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে হাওরের বুক চিরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা তৈরির প্রকল্পকে এগিয়ে নেওয়া হবে। কেন না দেশে এমন বড় মাপের কাজ করার অর্থসম্পদ নেই, করতে হলে সাম্রাজ্যবাদী অর্থসহায়তা দরকার, আর সে-সহায়তা পেতে হলে সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদার না হলে অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থোদ্ধারে সম্মত না হলে সে-সহায়তা পাওয়া যাবে না। দেশকে এমনি করেই এমনি ধরনের গরিব করেই রাখা হয়েছে। তাছাড়া দেশের ভেতরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সাম্রাজ্যবাদের দালালরা সক্রিয় আছে এবং বাইরে আছে স্বয়ং সাম্রাজ্যবাদ। দালালরা প্রতিনিয়ত অন্তর্ঘাতমূলক কাজে ব্যস্ত থেকে পদে পদে চূড়ান্তমাত্রায় দুর্নীতি করে চলেছে। তারা প্রতিনিয়ত দেশের সাধারণ মানুষের জীবনকে উন্নত করতে পারে এমন যে-কোনও প্রগতিমূলক কাজ কিংবা প্রকল্পকে কোনও না কোনও অমূূলক অজুহাতে প্রতিরোধ করে দিচ্ছে অথবা পিছিয়ে দিচ্ছে, প্রকারান্তরে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে পুরো দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে বিদেশিদের কাছে। দিনে দিনে বাড়ছে বিদেশিদের কাছে ঋণের বোঝা।

মাঝেমাঝেই এসব দুর্নীতিবাজরা ধরা পড়ে এবং এই ধরা পড়ে যাওয়া বিশেষ কোনও দুর্নীতিবাজকে রক্ষাকল্পে সকল দেশের সকল দুর্নীতিবাজ একাট্টা হয়ে দেশব্যাপী চক্র গড়ে তোলে, ধরা পড়া দুর্নীতিবাজের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করে। প্রশাসনিক প্রতিটি পদে তারা বসে বসে পা দোলিয়ে দুর্র্নীতি করে চলেছে, দেশ গোল্লায় গেলে তাদের কোনও ক্ষতি নেই, ক্ষতি যা হবার হবে দেশের সাধারণ মানুষের এবং প্রকারান্তরে বিদেশে দুর্নীতিবাজদের ব্যাংকব্যালেন্স ও গাড়ি-বাড়ি বাড়বে। সুতরাং নদী-খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করে ভাটি অঞ্চলের বন্যাসমস্যার সমাধান প্রাপ্তি কখনওই সম্ভব নয়, বরং তারা নিদেনপক্ষে করিবকর্মানীতি গ্রহণ করে দশকের পর দশক পার করে দেবার পরিকল্পনায় মেতে থেকে পরিকল্পনাটিকে নিজেদের স্বার্থোদ্ধারের উত্তম ক্ষেত্রে পর্যবসিত করবে নির্দ্বিধায়। যেমন হাওররক্ষা বাঁধপ্রকল্পকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধ দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে দুটি কাজ হয়েছে, একদিকে নতুন নতুন বাঁধ নির্মাণপ্রকল্প সৃজন এবং এইসব বাঁধের বরাদ্দ মেরে খাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে কৃষকের দুর্ভোগ আরও বেশি করে বেড়েছে। এই দুর্ভোগ কাজে লাগিয়ে নতুন করে দুর্নীতি করার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। দেশ চালানোর জন্য আমরা রাষ্ট্রক্ষেত্রে যাদেরকে নিয়োগ করে রেখেছি তাঁরা কখনওই আমাদের হয়ে কাজ করে নি, এখনও করছে না। তারা তাদের প্রভু সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহকতা করে করে পুরস্কার নেবে, দেশে-বিদেশে গাড়ি বাড়ি হবে, হবে বিরাট অঙ্কের ব্যাংকব্যালেন্স। আর যাঁরা দুর্নীতিবাজ নয় তাঁরা দুর্ভোগের শিকারে পরিণত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
অভিজ্ঞমহলের ধারণা আর্থসামাজিক ব্যবস্থাগত এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে জনগণকেই পথে নামতে হবে এবং বদলে দিতে হবে পুরো আর্থসামাজিক ব্যবস্থাটিকে। এর কোনও বিকল্প নেই।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com