1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ভোটে জিতলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪ ব্রিটিশ নারী

  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লেবার পার্টি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী। এবারের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে যাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার ব্রিটিশ নারী। তারা হলেন রুশনারা আলী, রুপা হক, টিউলিপ সিদ্দিক ও আপসানা বেগম।
বৃহ¯পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লেবার পার্টির আটজন, কনজারভেটিভ পার্টির দুজনসহ অন্যান্য দলের মনোনয়নে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ৩৪ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
রোশনারা আলী :
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ হিসেবে রুশনারা আলী বেথনালগ্রিন অ্যান্ড স্টেপনি আসন থেকে ১৫ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আজমল মাশরুর পেয়েছেন ১৪ হাজার ২০৭টি ভোট। ৪ হাজার ৭৭৭ ভোটে তৃতীয় হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী রাবিনা খান। এ আসনের অপর দুই স্বতন্ত্র বাংলাদেশি প্রার্থী স্যাম উদ্দীন ৩২৫টি এবং মোঃ সুমন আহমদ ৩১৫টি ভোট পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে তিনি টানা পাঁচবার সদস্য নির্বাচিত হলেন রুশনারা আলী। সিলেটে জন্মগ্রহণকারী রুশনারা আলী শিশুকালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। অক্সফোর্ডের সেন্ট জনস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ¯œাতক করেছেন তিনি।
ড. রূপা হক :
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন আসনে লেবার পার্টির মনোনয়নে ড. রূপা হক ২২ হাজার ৩৪০টি ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির জেমস উইন্ডসর ক্লাইভ পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৪৫টি ভোট।
পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে ৫২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বাংলাদেশি কন্যা লন্ডনের কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানে শিক্ষকতা করতেন। কিংসস্টন ইউনিভার্সিটিতে সর্বশেষ সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই কলামিস্ট ও লেখক।
১৯৬২ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে আসা মোহাম্মদ হক ও রওশন আরা হক দ¤পতির তিন কন্যার মধ্যে বড় রূপা হক। তার বাবার বাড়ি পাবনা শহরের কুঠিপাড়ায়। সাদামাটা জীবনযাপন ও বিনয়ী ব্যবহারের জন্য সবার প্রিয় পাত্র তিনি। টানা চতুর্থবার পার্লামেন্ট সদস্য রূপা ট্রিবিউন, দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখতেন। তিনি ইস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে যুব সংস্কৃতির ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
টিউলিপ সিদ্দিক :
বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক এবারের নির্বাচনে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের হ্যা¤পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়নে টানা চতুর্থবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালে টিউলিপ সিদ্দিক প্রথম যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।
হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসনে মোট ২৩ হাজার ৪৩২টি ভোট পেয়েছেন টিউলিপ। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ডন উইলিয়ামস ভোট পেয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৪৬২টি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ৪১ বছর বয়সী টিউলিপকে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নতুন প্রজন্মের তুমুল সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখছেন।
২০১৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরাপদ বা ‘সেফ সিট’ নয় এমন আসনে মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারই বাজিমাত করেন টিউলিপ। দুবার পার্টির ছায়া মন্ত্রীসভায় স্থান পান তিনি। লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় আসায় এবার মন্ত্রীসভাতেও জায়গা পেতে পারেন।
ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুল, হ্যা¤পস্টেডের রয়্যাল স্কুল ও মিল হিল স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। পরে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ¯œাতক ডিগ্রি ও কিংস কলেজ লন্ডন থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১১ সালে সরকার, রাজনীতি ও পলিসি বিষয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
আপসানা বেগম :
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন লেবার পার্টির আপসানা বেগম। লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসনে মোট ১৮ হাজার ৫৩৫টি ভোট পেয়েছেন তিনি। আপসানার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিন পার্টির নাথালি বেইনফিট ৫ হাজার ৯৭৫টি, কনজারভেটিভ পার্টির ফ্রেডি ডউনিং ৪ হাজার ৭৩৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী আপসানার প্রাক্তন স্বামী এহতেশামুল হক ৪ হাজার ৫৫৪টি ভোট পেয়েছেন।
পূর্ব লন্ডনের অপর আসনটিতে গতবার লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বিরোধিতার মুখেই লেবারের মনোনয়ন পান এবং নির্বাচনে জয়ী হন আপসানা বেগম।
টাওয়ার হ্যামলেটসের শ্যাডওয়েল তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাংলাদেশে তার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। আফসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন। আসন্ন নির্বাচেনও লেবার পার্টির প্রার্থী তালিকার শর্ট লিস্টড প্রার্থী তিনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার এমপি’র মধ্যে আপসানাই বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সভা সমাবেশ সবচেয়ে বেশি সময় দেন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সোচ্চার ভূমিকা পালন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।
রাজনীতিতে কুইনমেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে ¯œাতক এবং ২০১২ সালে সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও কমিউনিটি লিডারশিপ বিষয়ে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com