1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

খালেদা জিয়ার মুক্তি : জাতিসংঘের বিবৃতি আদায়ের চেষ্টা বিএনপির

  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪
khaleda zia

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবিতে রাজপথের কর্মসূচিতে রয়েছে দলটি। একইসঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছেন দলটির নেতারা। এই ইস্যুতে দলটি জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চায়। দলটির নেতারা মনে করেন, জাতিসংঘ বিবৃতি প্রদান করলে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন আরও জোরদার করা যাবে। বিবৃতি আদায়ের জন্য বিএনপির অন্তত ৩ জন নেতা দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলে দলটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। প্রায় দেড় মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গত মাসে দেশে ফিরেছেন দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আর বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক স¤পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদও বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এই ইস্যুতে।
সূত্রগুলো বলছে, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জাতিসংঘের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বৈঠকগুলো এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ফলপ্রসূ না হলেও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব নেতাদের গ্রহণযোগ্য নিয়ে দলের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। কেননা, এর আগেও এই নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি তারা। এর পেছনের কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেননি। বরং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সহায়তায় বৈঠকের সিডিউল ঠিক করতে হয় তাদের। ফলে অনেক সময় এসব বৈঠক শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।
সূত্রের দাবি, এসব নেতাদের ব্যর্থতার কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাধ্য হয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য করণীয় নির্ধারণ করেন। এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের বাংলাদেশস্থ মিশনে যোগাযোগ করেন। সেখানে বিএনপির পক্ষে চিঠি দিয়ে সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেন। যার প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠান।
মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, আমি তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আপনার (শেখ হাসিনা) সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই; যাতে তিনি দেশের বাইরে জরুরি ও বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।
চিঠিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি দুই পক্ষের রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলকার টুর্ক অবৈধভাবে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আটক করা থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এভাবে আটক করা হলে তা সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির কূটনৈতিক দেখভাল করেন এমন অন্তত দুইজন নেতা জানান, সম্প্রতি বিএনপির কূটনৈতিক বিষয় দেখেন এমন দুইজন নেতাকে ইউরোপের একটি দেশের কাছে ভিসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই নেতাদের অনুরোধ রাখেনি দেশটি। স্থানীয় অ্যাম্বাসিই তাদের এই সামান্য অনুরোধ রাখেনি। তাহলে ওই নেতাদের সঙ্গে বিদেশিদের স¤পর্ক কতটুকু? তারা কি শুধু ফটোশুট করতে যান? বিএনপি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যে কতোটা পিছিয়ে রয়েছে এই ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
সূত্রগুলো বলছে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বৈঠকগুলো করেছেন সেখানে ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। ড. মঈন খান এখনও চেষ্টা করছেন। তাকে সহায়তা করছেন শামা ওবায়েদ। তারা কতোটুকু সফল হবেন তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে বিএনপির হাইকমান্ডের চাওয়া হচ্ছে, বেগম জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জাতিসংঘ যেকোনো উপায়ে হস্তক্ষেপ করে। এবং মুক্তি ত্বরান্বিত হয়।
বিএনপির আন্দোলন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা উপেক্ষা করেই সরকার নির্বিঘেœ ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স¤পন্ন করে। এরপর বিএনপির আন্দোলনের ব্যর্থতা ও দলটির কূটনৈতিক স¤পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাস্তবে বিএনপির সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স¤পর্ক কোন পর্যায়ে সে বিষয়ে খোদ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠে। এই পরিস্থিতি দলটির বৈদেশিক স¤পর্ক বিষয়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বৈদেশিক স¤পর্কবিষয়ক কমিটি’ করেছিল বিএনপি। ২১ সদস্যের ওই কমিটির প্রধান ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আর গত ১৫ জুন বিএনপির আন্তর্জাতিক স¤পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘বিএনপির চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটি’। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক স¤পর্কবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি নামেও আরেকটি কমিটি করা হয়।
জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য রাজপথের পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এজন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করাসহ একাধিক নেতা দেশের বাইরে রয়েছেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিতে চান দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা। প্রথম ধাপে ঘোষিত তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি গত বুধবার শেষ হয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আগামী সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন কর্মসূচির ঠিক হতে পারে। একইসঙ্গে আইনি লড়াই কীভাবে চালানো যায় সেই প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছে দলটি।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। সর্বশেষ ১১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বাসায় ফেরেন। এ দফায় খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেন আদালত। সেই থেকে প্রায় দুই বছর জেলে ছিলেন তিনি। পরে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ- স্থগিত করে দুটি শর্তে সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে ৬ মাস পর পর তার মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার।

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com