1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০২:১৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

“এমডি পদের জন্য এত লালায়িত কেন, কী মধু আছে”

  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগ থেকে বিশ্বব্যাংকসহ অন্য দাতা সংস্থাগুলোর সরে যাওয়ার জন্য আবারও গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এমডি ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) লিভিং ওয়েলে থাকুক। কিন্তু বিশ্বব্যাংক আরও বেশি টাকা দেবে বলে চলে এলো। এর মধ্যে যে ঘটনা ঘটলো, সেটা আরও দুঃখজনক। একটা পদ, সেটা হলো একটা ব্যাংকের (গ্রামীণ ব্যাংক) এমডির পদ। এই পদটা নিয়েই যত জটিলতা, যত সমস্যা। সামান্য একটা এমডি পদের জন্য এত লালায়িত কেন, এমডি পদে কী মধু আছে?
শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকালে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান এবং এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গত ৩০ জুন পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ড. ইউনূসের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা ব্যাংকে যদি আইন থাকে একজন ২০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারবে। ইতোমধ্যে তার বয়স ৭০ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত সময় থেকে ফেলেছে। তাহলে সে সেখানে এমডি থাকে কী করে। একজন নামিদামি নোবেল লোরিয়েট – সে সামান্য একটা এমডি পদের জন্য এত লালায়িত কেন? এই প্রশ্নের উত্তর কখনও পেলাম না। যে বড় দেশ তাকে প্রমোট করে, সেই দেশের অ্যাম্বাসেডর আমার অফিসে আসে। আমার অফিসারদের ধমকায়, বলে- এমডি পদ না থাকলে এই টাকা (পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ প্রস্তাব) বন্ধ হয়ে যাবে।
এমডি পদের জন্য আমার কাছে তদবির করতে হিলারি ক্লিনটনসহ পশ্চিমা আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ফোন করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেকে এলো। আমি শুধু জিজ্ঞেস করলাম, একটা কথা বলেন তো – এই এমডি পদে কী মধু আছে?
গ্রামীণ ব্যাংক স্বাধীনতার পরপর শুরু করেছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা সত্যিকারভাবে আইনটা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল ১৯৮৩ সালে, তখন জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায়। এরশাদ সাহেব এই ব্যাংকটা তৈরি করলো। এমডি পদ কাকে দেবেন, খোঁজ করলো। ওখানে মোজাম্মেল সাহেব ছিল, আমি চিনি তাকে। তিনি বললেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন প্রফেসর আছে, তাকে দেওয়া যায়। সেই প্রফেসরকে এনে এখানে এমডি পদে বসানো হলো। সেই প্রফেসর এমডি পদে বসে আর ওই এমডি পদের চেয়ারে এমনই গ্লু (আঠা) যে এমনই আটকে গেলেন যে ওখান থেকে আর নড়তে চান না।
আইনে ৬০ বছর এমডি পদে থাকার কথা থাকলেও তখন ড. ইউনূসের বয়স ৭০ পেরিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাভাবিকভাবে তাকে…। আমাদের তরফ থেকে অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী সেই এমডির কাছে গিয়ে বললেন, আপনি আর এমডি থাকবেন কেন? আপনি বরং এখানে উপদেষ্টা ইমিরেটাস হিসেবে থাকেন। তাতেও তিনি রাজি না। তিনি মামলা করলেন সরকারের বিরুদ্ধে। অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকৃ দুটি মামলা করলেন। মামলা শুনে সবাই ঘাবড়ে যায়। আমি খালি বললাম, মামলা কিছু না, আইনটা প্লেস করবেন। কোর্ট যদি কারও বয়স বাড়াতে পারে, কমাতে পারে আর কোর্ট বলে আইন ভঙ্গ হোক, সেখানে তো আর আমাদের কিছু বলার থাকে না। কোর্ট তো সেটা পারবে না, আইন ভঙ্গ করতে
পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলায় তিনি হেরে গিয়ে আরও ক্ষেপে গেলেন। আর তার ওই অ্যাম্বাসেডরের আনাগোনা তো চলছেই। বারবার পিএমওতে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) আসে আর একই কথা শোনায়। এরপর একজন আন্ডার সেক্রেটারি এলেন, তিনি এসে এমন কিছু কথা বললেন যে আমি সেদিনই তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিলাম। তা-ই না, আমি বলে দিলাম- আমেরিকা থেকে আর কেউ এলে আমি কারও সঙ্গে দেখা করবো না। আমি আর দেখা করিনি, আমি কারও সঙ্গে আর দেখা করিনি।
তিনি বললেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গিয়েও ওই প্রশ্ন, আমি খালি জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আমাকে একটা জবাব দেন তো এমডি পদে কী আছে? তবে এখন একটু বলে রাখি। কী যে মধু আছে তা এখন যদি দেখেন খোঁজ পাবেন। যখন লেবাররা মামলা করে, যখন ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার মামলা হয়, যখন দুর্নীতির মামলা হয়, তখনই আস্তে আস্তে বের হয়ে যাবে ওই এমডি পদে কী মধু আছে। আর গ্রামীণ ব্যাংকের যখন অডিট রিপোর্ট আসবে আরও তথ্য বের হবে। এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।
বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিকের সঙ্গে নিজের পরিচয় থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যেদিন চলে যাবেন, সেদিনই পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিলো। এটা কিন্তু বোর্ডে পাস হয়নি। এর জন্য হিলারি ক্লিনটনের নাকি নির্দেশনা ছিল, এটা বন্ধ করে দিতে হবে। কেন এমডি পদে থাকতে পারলো না। টাকা বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দাতা সংস্থাও দেখি একে একে সবাই বন্ধ করে দিলো। আমি বিশ্বের অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাদের ধারণা – বিশ্বব্যাংক ছাড়া বোধহয় এই ধরনের সেতু করা যাবে না। আমি বললাম, কেন পারা যাবে না? বললো, বিশ্বব্যাংক না থাকলে পারা যাবে না। আমি বললাম, পারা যাবে না কেন, আমরা নিজেরা করতে পারবো না কেন?

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com