1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:২৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দ্বিতীয়বার বন্যার ধাক্কা, ভোগান্তিতে মানুষ

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪

 

আকরাম উদ্দিন ::
দিনশ্রমিক জহুর আলী (৫৫) পরিবার নিয়ে ৯ দিন ছিলেন একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। বসতঘর থেকে পানি নামায় বাড়িতে গিয়ে সবকিছু গোছগাছ করছিলেন। কিন্তু তিনদিন পরই আবার ঘর ছাড়তে হলো। জহুর মিয়া বলেন, “মনে করছিলাম বন্যা গেছেগি। অখন দেখি শেষ অইবার আগে আরেক ধাক্কা দেলাই লো। আজকু দিনটা ধরছে। ইলা থাকলে মনে অয় কাইল-পরশু যাইতাম পারমু।”
সুনামগঞ্জ শহরের পূর্বপ্রান্তে বনানীপাড়া এলাকায় তার বাড়ি। আশ্রয় নিয়েছেন শহরের ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
শুধু জহুর মিয়া একা নন, সুনামগঞ্জের ফের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তার মতো অনেকেই বিপাকে পড়েন। হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামায় আবার নদ-নদী হাওরে পানি বাড়ে থাকে। একলাফে মঙ্গলবার সকালে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে যায়। অনেকের ঘরবাড়িতে দ্বিতীয়দফায় পানি ওঠে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বিশেষ করে দ্বিতীয়দফায় রবিবার রাত থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত জেলায় দুইদিনে বৃষ্টি হয় ৪৭০ মিলিমিটার। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ছয়টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কম হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় সুরমা নদীর পানি শহরের কাছে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।
দুইদিনে ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। শহরের সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
শহরের কালীপুর এলাকার বাসিন্দা আলা উদ্দিন (৫০) বলেন, বাড়িত আইতাম অই পারলাম না। পানি কিছু কমছিল, অখন আবার বাড়ি গেছে। একই এলাকার বাসিন্দা দীন ইসলাম (৪২) বলেন, আগের বার পানিত ঘরের বেড়া ভাঙছে। ইতা ঠিক করতাম পারছি না। সাতদিন উপজেলায় আছলাম। পানি যদি আরও বাড়ে তাইলে আবার যাইত অইব। আমরার কষ্টর সীমা নাই।
পৌর মেয়র নাদের বখত বলেন, শহরের কিছু কিছু এলাকায় পানি আছে। আমরা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। যদি আর ভারী বৃষ্টি না হয়, তাহলে পানি কমে যাবে আশা করি।
সুনামগঞ্জে এ মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় গত ১৭জুন। বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৩৬৫ মিলিমিটার। এরপরই পুরো জেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এই বন্যা পরিস্থতির উন্নতি হতে শুরু করলে রবিবার রাত থেকে আবার ভারী বৃষ্টি শুরু হয় সুনামগঞ্জ ও এর উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে। মূলত উজানে বেশি বৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নেমে পরিস্থিতির অবনতি হয়। ঢলের পানিতে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর ও বালিজুরি, একই সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা-দুর্গাপুর, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের আহমদাবাদ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে তিনদিন ধরে সরাসরি যান চলাচর বন্ধ রয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া জানান, আবার ঢল নেমেছে। মানুষ আবার ভোগান্তিতে পড়েছেন। মানুষের বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করেছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, এবার তাঁর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে গত দুইদিনে ব্যাপক পরিমাণে পাহাড়ি ঢল হয়েছে। এ কারণেই পানি বেড়েছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে মঙ্গলবার পাহাড়ি ঢল কম নেমেছে বলে জানান তিনি।
সড়ক নিয়ে আফতাব উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের কয়েকটি স্থান পাহাড়ি ঢল নামলেই প্লাবিত হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন উপজেলার মানুষ। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্যোগ নেই।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীর তীরের মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন বলেন, মানুষ তো আগের বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এখনো অনেকের ঘরে পানি আছে। এখন আবার বন্যা হলে, পানি বাড়বে মানুষ যাবে কোথায়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেছেন, মঙ্গলবার দিনে বৃষ্টি কম হয়েছে। দুপুরের পর নদীর পানি কিছুটা কমেছে। সুনামগঞ্জ এবং এর উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হওয়ার কারণেই মূলত পানি বৃদ্ধি পায়। বুধবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। উজানের ঢলের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার, নগদ টাকা ও জিআর চাল মজুত রয়েছে। বন্যাকবলিত লোকজনকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুনামগঞ্জে গত ১৬ জুন থেকে বন্যা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে পুরো জেলা বন্যাকবলতি হয়ে পড়ে। প্লাবিত হয় জেলার এক হাজার ১৮টি গ্রাম। আট লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়। মানুষের বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে আশ্রয় নেন প্রায় ২৫ হাজার পরিবার। ২৩ জুনের পর থেকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে মানুষ বাড়িঘরে ফেরেন। আবার কেউ কেউ এখানে বাড়িতে ফিরতে পারেননি। মানুষ স্বস্তি ফেলার আগেই আবার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com