1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শিক্ষকদের আন্দোলন কেন? : সুপন রায়

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪

প্রত্যয়-এ প্রত্যয় নেই! কেন নেই? কেন বিরোধিতা? এই ‘কেন’র জবাব আছে প্রশ্ন তোলার ভেতরেই। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিতে যারাই এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা সবাই কমবেশি সরকার পক্ষের! তারপরও কেন বিরোধিতা? কেন মেনে নিতে পারছেন না তারা? কেন একটি নতুন উদ্যোগের সূচনাতেই এই আন্দোলন-সংগ্রামের প্রকাশ্য ঘোষণা? কেন বিবৃতি?
১৩ মার্চ ঘোষিত হলো, প্রত্যয় স্কিম। কিন্তু আমরা দেখলাম, ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এর বিরোধিতা করা শুরু করেন সারা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অল্প কিছুদিন পরই আবার আমরা খেয়াল করলাম, প্রত্যাখ্যান-এর বিজ্ঞপ্তি! বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের প্যাডে এই বিজ্ঞপ্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন কোটা প্রত্যাহার নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা! সময়টা তাই এখানে খুব গুরুত্ব রাখে। কেননা প্রত্যয়সহ সর্বজনীন পেনশন স্কিমবিরোধী আন্দোলন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, দানা বাঁধছে ক্ষোভ! এই ক্ষোভ ¯পর্শ করেছে প্রতিটি ইনডিভিজুয়ালকে! স্বার্থে লেগেছে সরাসরি! ছাত্র ও শিক্ষক মিলে অভিন্ন কাতারে যোগসূত্র মেলবন্ধনে নতুন পাখা মেলে কি-না, কে জানে? বিরোধিতার পটভূমি আঁচ করতে দু-একজন শিক্ষকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার চেষ্টা করেছি। সহজ করে বললে, তারা বিষয়টিকে স্বার্থে সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।
তাদের ধারণা, এমনিতে যেভাবে তারা পেনশন পেয়ে অভ্যস্ত, সেভাবে আর পাওয়া হবে না, এটা কার্যকর হলে! চাঁদা দিতে হবে পেনশনের জন্য, সরকার দেবে একটা অংশ। তারপর তারা পাবেন। এককালীন যে অর্থ পাওয়া যেত, তা এখন পাওয়া যাবে কিনা তাও কেউ জানেন না। বলতে পারছেন না পরিষ্কার করে!
এটা মূলত বিশ্বাসের সংকট। আস্থার ঘাটতি! তাই সরকারের পেনশন স্কিমের প্রতি মানুষ আর আস্থা রাখতে পারছে না। এর পেছনে বড় যুক্তি হিসেবে তারা সামনে এনেছেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সেটা হলো অন্তর্ভুক্তি! সরকারি আমলাদের বাইরে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যুক্ত করা! নাম যখন ‘সর্বজনীন’ হয়, তখন আলাদা করা কেন? ‘সর্বজনীন’ শব্দের অর্থ কী? পক্ষপাত হলে সেটি সর্বজনীন হয় কী করে? সবার জন্যই সমান না রেখে কোনো উদ্যোগ নিলে সেখানে সন্দেহ দানা বাঁধে! অবিশ্বাস তৈরি হয়! আর তাই তাদের বদ্ধমূল ধারণা, এই নতুন উদ্যোগ, নতুন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তৈরি হবে বৈষম্য। যা উসকে দেবে অনেক খারাপকে! তারা বলছেন পেনশনের নিরাপত্তা থাকাতেই অনেকে বিদেশে শিক্ষকতা না করে বাংলাদেশে এসে শিক্ষকতা করছে। কিন্তু এই অনিশ্চয়তার কারণে এখন শিক্ষকতা পেশায় মানুষ কম যুক্ত হতে চাইবে! এটা কী ধরনের যুক্তি?
শিক্ষকদের আন্দোলনে প্রকাশ্যে এবং নেপথ্যে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা আসলে কারা? এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া জরুরি। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষও বলে দিয়েছে, পুরনো যারা, তারা আগের নিয়মে পেনশন পেলেও ১ জুলাই থেকে নতুন যারা নিয়োগ পাবেন, তারা এই স্কিমের আওতায় আসবেন। আরও কিছু দিক আছে এবং তা যৌক্তিক। দেশে প্রথমবারের মতো এমন একটি সর্বজনীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন এটি করার আগে, যাদের জন্য করা, তাদের সঙ্গে কথা না বলে আপনি কেমন করে একটি নতুন নীতি চাপিয়ে দিতে পারেন? এটি কি আদৌ কখনো সম্ভব? এভাবে কোনো পলিসি গ্রহণ করা সম্ভব?
সত্যিকার অর্থে, এতে কারও ক্ষতি হবে না। নতুন স্কিম তাই অনেকের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। সময় হলে সবাই বুঝবেন। অযথাই এই আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন হয়ে গেছে! ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন। কর্মবিরতি কর্মসূচির পর সংবাদ সম্মেলন হয়! সেখানে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওহিদুজ্জামানকে আমরা অংশ নিতে দেখলাম। ওই সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ স¤পাদক জিনাত হুদা পহেলা জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ার ঘোষণা দেন। বলা হয়, কোনো শিক্ষক ক্লাসে যাবে না! ডিন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না! কোনো সভা-সেমিনার হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
এই যখন মাঠের চেহারা, উত্তপ্ত হওয়ার সব উপলক্ষ যখন তৈরি হয়ে আছে, তখন এমন একটি উদ্যোগকে কেবল রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বলে চাপিয়ে দেওয়ার মতো দৃষ্টিভঙ্গিতে কতখানি এগিয়ে যাবে, তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়! বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের আগে শিক্ষকদের উচিত ছিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসা। যদি কোনো সমস্যা থেকেই থাকে, পার¯পরিক আলোচনার মাধ্যমে অবশ্যই বিষয়টির সমাধান করা যেত। এর জন্য সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, কোনোভাবেই শিক্ষকসুলভ আচরণ হতে পারে না।
পেনশন-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার ও প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, আগে তহবিলে সংস্থার প্রদানকৃত অর্থ ছিল কর্মচারীর ‘কন্ট্রিবিউশন’-এর চেয়ে কম, কিন্তু প্রত্যয় স্কিমে প্রতিষ্ঠানকে কর্মীর সমপরিমাণ টাকা জমা দিতে হবে। এতে পেনশনার অধিক লাভবান হবেন। পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন স্কিমটি ভিন্ন আঙ্গিকের। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যারা ভবিষ্যতে যোগদান করবেন তারা অবসরে গেলে যেন পেনশন পান সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে। এ রকম কথা বলার পরও কেন বিরোধিতা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। আসলে এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।
আগেই বলেছি, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের প্যাডে এই বিজ্ঞপ্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন কোটা প্রত্যাহার নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা!’ এই দুই আন্দোলনে কোনো ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে। বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলন ক্রমাগত বিস্মৃত হচ্ছে। ধারণা করা যায়, এর পরিধি আরও বাড়বে। তার আগেই সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি। কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা আশ্চর্য হই এটা ভেবে যে, এটা এমন কোনো ইস্যু ছিল না, যা নিয়ে দেশব্যাপী শিক্ষকদের ফুঁসে উঠতে হবে। এখন মূল দায়িত্ব সরকারের। বিষয়টিকে শিক্ষকদের আস্থায় নিয়ে আসতে হবে। আমাদের হাতে সময় কম। এটা যত তাড়াতাড়ি বুঝব, ততই মঙ্গল। সম্মানজনক এবং সুষ্ঠু সমাধান চাইলে আন্দোলনের পথ থেকে শিক্ষকদের আগে সরে আসতে হবে।
লেখক: নির্বাহী পরিচালক, ¯িপক আউট ফাউন্ডেশন

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com