1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

“বইন্যায় পরতি বছর আমরার কোমর ভাঙিলায়”

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার ::
“ঘরো অখনও আটু পানি। ঈদের দিন থাকি হখলরে নিয়া বাড়ি ছাড়ছি। ঠিকমত খানি নাই, ঘুম নাই। ঘরের ধান-চাউল, খেতা-বালিশ সব নষ্ট অইছে। পরতি বছর বইন্যায় আমরার কোমর ভাঙিলায়।”
উঠানে কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে নিজের এমন অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন শ্রমিক আলা উদ্দিন (৫০)। তখনো তাঁর ঘরের ভিতর বন্যার হাঁটু সমান পানি। ঘরের কাঁচা বেড়ার কিছু অংশ পানির তোড়ে ধসে গেছে। হেলে পড়েছে রান্নাঘর। বৃষ্টি থামায় পাঁচদিন পর ঘরবাড়ি অবস্থা দেখতে এসেছেন।
আলা উদ্দিনের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালীপুর গ্রামে। শুধু আলা উদ্দিন একা নন, এই গ্রামের বেশিরভাগই মানুষের ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকেছে। অনেকেই আছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। কারো ঘরে তালা ঝুলছে। গ্রামের সড়কে পানি, নৌকা চলছে।
শনিবার এই গ্রাম ঘুরে এ রকমটাই দেখা যায়। দেখার হাওরপাড়ের এই গ্রামের পাশে হাসনবসত ও নতুনহাটি নামের আরও দুটি গ্রাম আছে। তিন গ্রামে মিলে তিনশ’র কাছাকাছি পরিবারের বসবাস। নানা পেশার মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছেন হাওরে কৃষিকাজ, বর্ষায় মাছ ধরেন।
বন্যায় ক্ষতি হয় দরিদ্র মানুষের বেশি জানিয়ে আলা উদ্দিন জানান, কোনো রকমে টেনেটুনে পাঁচজনের সংসার চলে। বন্যায় যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন সেটা কাটিয়ে উঠতে এক বছর লাগবে। এখন প্রতি বছর বন্যা হয়, তারা ক্ষতির মুখে পড়েন।
কালীপুর গ্রামের মাঝামাঝি আলা উদ্দিনের টিনের চালা ও আংশিক টিনের বেড়ার ঘর। উঠানের এক পাশে ছোট রান্না ঘরটি একদিকে হেলে পড়েছে। তাঁর উত্তরে বিল্লাল আমিনের ঘর। এই ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। কিছুক্ষণ পর বিল্লাল আসেন পানিতে ভিজে। জানালেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপজেলা পরিষদে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরের পানি নামতে আরও তিন-চারদিন লাগতে পারে। বিল্লাল বলেন, এখন বন্যা প্রতি বছর হয়। প্রতি বছর ঘর-দুয়ারের ক্ষতি হয়। সঙ্গে দুর্ভোগ তো আছেই।
ষাটোর্ধ্ব শামসুদ্দিন একটি ছোট নৌকা নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে সহধর্মিণী রাবিয়া বেগম। এই দ¤পতি জানালেন, ঘরে পানি প্রবেশ করার পর সবাইকে নিয়ে গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে উঠেছেন। আরও কয়েকটি পরিবার আছে সেখানে। পানি কিছুটা কমায় ঘরের অবস্থা দেখতে এসেছেন।
রাবিয়া বেগম বলেন, পাঁচদিন ধইরা একটা বিল্ডিংয়ে আছি, কিলা আছি কেউ খোঁজ নিছে না। কোনো সাহায্য পাইলাম না। কষ্টের কথা কারে কইতাম।
সুনামগঞ্জে বন্যায় এ রকম কষ্টে পড়েছেন লাখো মানুষ। জেলা প্রশাসনের হিসাবেই বন্যায় প্লাবিত হয় এক হাজার ১৮টি গ্রাম। পানিবন্দি মানুষ প্রায় আট লাখ। দুদিন সুনামগঞ্জে ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কম হওয়ায় সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামছে ধীরে। এক দিকে পানি কমতে শুরু করেছে, অন্যদিকে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত রোববার (১৬ জুন) দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। মঙ্গলবার একই সময় পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। চারদিন পর শনিবার সুরমা নদীর পানি এখানে বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৭দশমিক ৭৮ মিটারে। যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১০ মিলিমিটার।
সুনামগঞ্জে গত ১৬ জুন থেকে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অসংখ্য ঘরবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ। প্রথম দিকে সদর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা আক্রান্ত হলেও পরে জেলার সব উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। ছাতক, সদর, দোয়ারাবাজার উপজেলায় অসংখ্য বাড়িঘরে এখনো পানি রয়েছে। রাস্তাঘাট প্লাবিত আছে। দিন যত যাচ্ছে পানি বন্দী মানুষের ভোগান্তি তত বাড়ছে। অনেকের ঘরে খাবারের সংকট রয়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় আছেন মানুষ।
সুনামগঞ্জ শহরে অনেক মানুষের বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি আছে। যাদের বসতঘরে পানি, তারা আছেন বেশি কষ্টে। অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে। কেউবা পরিবার নিয়ে উঠেছেন হোটেল। আবার কেউ কেউ আছেন আশ্রয় কেন্দ্রে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, আরও হবে। গত দুইদিন সুনামগঞ্জ এবং ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কম হওয়ার কারণেই নদীর পানি কমছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেছেন, সুনামগঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী আছে। ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com