1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:২১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

“পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত, তাই সুনামগঞ্জে বারবার বন্যা”

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

আকরাম উদ্দিন ::

“উজানের ঢলের পানি এখন সুনামগঞ্জে এসে দিশেহারা হয়ে পড়ে। ভাটির গন্তব্যে যেতে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হয়। পথ খুঁজে পায় না। মাঝপথে এই পানি পথ হারানোয় সুনামগঞ্জ বারবার বন্যায় তছনছ হচ্ছে।”

সুনামগঞ্জ কেন বারবার বন্যার কবলে পড়ছে, এমন প্রশ্নে কথাগুলো বলছিলেন পৌর শহরের এক প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। “কারণ মোটামুটি সবাই জানে, কিন্তু সমাধানের উদ্যোগ নেই। তাই সহসা এই দুর্যোগ থেকে সুনামগঞ্জবাসীর মুক্তি পাবে বলে মনে হয় না।” সঙ্গে আরও যুক্ত করেন তিনি।

৮৬ বছরের এই প্রবীণ হলেন ধূর্জটি কুমার বসুর। ৪৩ বছর শিক্ষকতা করেছেন। শহরের সব মহলে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় এক মানুষ। তাঁকে সবাই ‘রাখাল স্যার’ হিসেবে চিনেন। এখনো নানা সামাজিক কাজে সক্রিয়। শহরের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত আলফাত স্কয়ারের পশ্চিমে তাঁর বাসা। এখানে ১৩০ বছর ধরে তাঁর পরিবারের বাস।

তাঁর কাছে বন্যা প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, বন্যা ও এর প্রতিকার স¤পর্কে কদিন আগে শহরে গোলটেবিলে কথা বলেছেন তিনি। ধূর্জটি কুমার বসু যৌবনে ফিরেন। বলেন, তাঁরা এমনও দেখেছেন পুরো এক মাস সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পানি কোথাও থেমে থাকেনি। শহরের পানি ঝটপট নেমে গেছে দক্ষিণের দেখার হাওরে। আবার শহরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য জলাধার, খাল। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে বর্ষায় আবহমান কাল থেকে ঢল নামছে সুরমা নদী হয়ে। খুব কমই হয়েছে সেই ঢলের পানি নদীর তীর উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ঢলের পানি নদী হয়ে বয়ে গেছে ভাটিতে, সাগরে। আবার নদীতে বেশি পানি হলে শহরের ভিতরে থাকা কামারখাল, বড়পাড়া খাল, ধোপাখালি খাল, বৌলাইখাল হয়ে পানি গিয়ে পড়েছে হাওরে। এখন এসব খাল কোথায়, কেমন আছে সেটি অনেকই জানে না। কোনোটি নালা হয়ে গেছে। এসব খালের প্রতিটির উৎসমুখ ছিল সুরমায়। কিন্তু এখন সব বন্ধ হয়ে গেছে। তাই নদীতে পানির চাপ বেড়েছে। সুরমা নদী পানির চাপ সইতে পারছে না। পথ হারিয়ে দিকবিদিক ছড়িয়ে পড়ে।

পানি কেন পথ হারায়? রাখাল স্যার বলছিলেন, সুরমা নদী নাব্যতা হারিয়েছে। অনেক স্থানে সংকুচিত হয়েছে। নদী থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া বহু খাল বন্ধ। পাহাড়ি ঢলের ধাক্কা লাগে এসে সুনামগঞ্জে। তখন কোনো পথ না পেয়ে পানি তীর উপচে প্রবেশ করে হাওরে। হাওরগুলোও ভরাট হয়ে গেছে। পানি যাবে কোথায়। শহরে, গ্রামে প্রবেশ করে। এখন সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি হলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। ২০২২ সালের ভয়ংকর বন্যায় অসহায়ত্বের কথা মনে করে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এবারও তাই হয়েছে।

তবে ২০২২ সালের বন্যাকে একটা ‘অঘটন’ বলেন ধূর্জটি কুমার বসু। তিনি ১৯৮৮, ২০০৪ সালসহ অনেক বড় বন্যা দেখেছেন। এখন যে বন্যা হয় এগুলোর চরিত্র ভিন্ন বলে জানান তিনি। আগে বন্যার পানি এসে দ্রুত চলে যেত। বড়জোর বন্যা থাকত তিনদিন এখন ঢলে স্রোত থাকে বেশি। বন্যার পানি স্থায়ী হয় বেশিদিন। এতে দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী হতে পারে? তিনি বলেন, “এটা সবাই জানে, সবাই বলে, কিন্তু কাজটি আর হয় না।” সুরমা নদী খনন করতে হবে। নদীর বিভিন্ন স্থানে যেসব খালের উৎসমুখ বন্ধ করা আছে, সেগুলো খুলে দিতে হবে। সুনামগঞ্জের পান্ডারখালে একটি স্লুইস গেট করা দরকার। বর্ষায় সেটি খুলে দিলে সুরমা নদীর পানির একটা বড় অংশ দেখার হাওর, মহাসিং নদী হয়ে ভাটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবে। শহরে খালগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না আনতে পারলেও অন্তত পরিষ্কার রাখলে বৃষ্টির পানি সহজেই নিষ্কাশন হবে। কিন্তু গত ২০ বছর ধরে এসব খাল উদ্ধারের নামে যা হচ্ছে, সেটি দুঃখজনক। একই সঙ্গে শহরে সড়কের পাশে থাকা জলাধার ভরাট বন্ধ করতে হবে। এসব অন্যায় প্রতিদিনই হচ্ছে, কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। অপরিকল্পিত নগরায়নও এই সমস্যার জন্য দায়ী।

এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি আইনজীবী আইনুল ইসলাম বলেন, শুধু নদী নয়, জেলার হাওরগুলো আগের মতো পানি ধরে রাখতে পারে না। হাওর ছিল পানি রিজার্ভ টাংকি। এখন হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। তাই নদীর সঙ্গে হাওরগুলোও খনন করতে হবে। এতে পানির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বাড়বে।

সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে যেতেই হবে বলে মনে করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ সাদিক। তিনি বলেন, আমাদের বসতে হবে। চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলার পর আমরা বসব। আলোচনা করব। করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই এই সমাধানে কাজ শুরু করতে হবে।

বৃহ¯পতিবার পানিস¤পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে সুরমা নদী খননের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নদী হাওরে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়ালেই সুনামগঞ্জবাসী বন্যা থেকে অনেকটা রক্ষা পাবে। এজন্য একটি বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com