1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সুনামগঞ্জের বন্যা ও স্থায়ী সমাধান : মোহাম্মদ আব্দুল হক

  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪

আমার গ্রামের বাড়ি হরিনাপাটি। আমার শৈশব অর্থাৎ অ আ ক খ শিক্ষা গ্রহণের সময় থেকে দেখে আসছি প্রতি বছর সুনামগঞ্জে বন্যা হয়। কখনও কখনও পুরো শহর তলিয়ে যায়। খ্রীষ্টিয় বিংশ শতকের ৯০ দশকের ’৮৭ ও ’৮৮ সাল আমাদের ছাত্রাবস্থায় স্মরণীয় ভয়াবহ বন্যা। এরপর বন্যা হয়েছে এবং উকিলপাড়া, ষোলঘর, বিলপাড় ইত্যাদি নিচু এলাকায় নদীর পানি উপচে ডুবেছে প্রায় প্রতি বছর। এরপর ভয়াবহ বন্যা দেখেছি একবিংশ শতাব্দীর ২০০৪ খ্রীষ্টিয় সালে। তখন আমার বাসা ছিল বিলপাড়ে সবচেয়ে উঁচু ভিটায়। তবুও ওই বছর বাসার ভিতরে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার পানি হয়।
সুনামগঞ্জের কেন্দ্রে সুনামগঞ্জ শহর আছে। উপরোক্ত সমস্যা আমি বিংশ শতাব্দীর শেষ তিন দশক দেখেছি এবং একবিংশ শতাব্দীর দুই দশক পেরিয়েও দেখছি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ সবসময়ই আসবে, হয়তো কোনো বছর কম হবে আবার কখনও কখনও ভয়াবহ রূপ নেয়। সিলেট বিভাগের উত্তর – পূর্ব কোণজুড়ে ভারতের আসাম ও মেঘালয় এবং সেখানে ভারী বর্ষণ হলে সেই বৃষ্টির পানির প্রবাহ সুরমা কুশিয়ারা ও আরও কিছু কিছু নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতো বিশাল পানির প্রবাহ আমাদের নদী উপচে প্রথম সিলেট জেলার লোকালয় প্লাবিত হয় এবং অব্যাহত পানির প্রবাহ সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জে পৌঁছে। এ দুর্যোগের প্রথম ধাক্কা লাগে সিলেটে।
আমি কোনো নদী বিশেষজ্ঞ নই কিংবা আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ নই। তারপরও আমার দেখা অর্ধ শতাধিক বয়সের পৃষ্ঠা উল্টে পড়তে পারি এবং সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারি। সুনামগঞ্জের বন্যা প্রসঙ্গে দীর্ঘ বিশ্লেষণ প্রতি বছর অনেক বিশিষ্টজন করেন। আমি সাধারণ মত প্রকাশ করছি। আগে সুনামগঞ্জের কেন্দ্র বাঁচাতে হবে। সুনামগঞ্জ শহরের উত্তর – পূর্ব দিকে সুরমা নদীর পাড় ধরে ব্রাহ্মণগাঁও থেকে ধারারগাঁও, নবীনগর, ষোলঘর, পশ্চিম বাজার হয়ে নদীর পাড়ে পাড়ে ওয়েজখালি পর্যন্ত পাঁচফুট উঁচু করে দশফুট প্রশস্ত বাঁধ নির্মাণ করলে প্রাথমিক ধাক্কাটা শহরের উপর দিয়ে যাবে না। এরপর এখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্যায়ক্রমে নদীর তীর বরাবর উভয় দিকে স্থায়ী বাঁধ আরও এগিয়ে নিলে পুরো সুনামগঞ্জ জেলায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করবে না। আর হ্যাঁ, নদী খনন জরুরি। এ কাজে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সংসদীয় আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বৈঠকে বসে সুনামগঞ্জের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অন্যথায় বিচ্ছিন্নভাবে সঠিক কাজ হবে না মনে করি। সকলের মননের বিকাশ ঘটুক।
[মোহাম্মদ আব্দুল হক, লেখক ও কলামিস্ট]

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com