1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মজুরির সমপরিমাণ উৎসব বোনাসের দাবি

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

মজুরির সমপরিমাণ উৎসব বোনাসের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৮৮৩। শনিবার রাতে রায়পাড়াস্থ কার্যালয় থেকে লাল পতাকা হাতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে আলফাত উদ্দিন চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি লিলু মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি তৈয়ব আলী, সদস্য মো. আলম প্রমুখ ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা আসন্ন। এই ধর্মীয় উৎসব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসলেও হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের সব সময় এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়। কারণ ঈদুল আযহায় হোটেল শ্রমিকদের ন্যায্য উৎসব বোনাস প্রদান করা হয় না। এমন কি অধিকাংশ হোটেল শ্রমিকদের ঈদ উপলক্ষে ছুটি দেওয়া হলেও ছুটিকালীন মজুরি দেওয়া হয় না। অথচ শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে সৃষ্ট মুনাফায় মালিকপক্ষ মহাধুমধামে ঈদ উৎসব উদযাপন করেন। বাংলাদেশ শ্রমআইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত)এর ধারা ২(২ক) এবং বাংলাদেশ শ্রমবিধি-২০১৫ এর বিধি-১১১(৫) অনুযায়ী সকল শ্রমিককে উৎসব বোনান প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ও মানবাধিকারের দিক থেকেও শ্রমিকদের উৎসব বোনাস থেকে বঞ্চিত করা অমানবিক।
হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকরা যে মজুরি পান তা দিয়ে বর্তমান ঊর্ধ্বগতির বাজারদরে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারেন না। চাল, ডাল, তেল, চিনি, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশেহারা। তদুপুরি হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের শ্রমআইনের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরিচ্যুতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকরির জন্য ১ মাসের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘণ্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ হোটেল মালিকপক্ষ সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নির্বিকার। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও আমরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য হই। আমরা দৈনিক ১০/১২ ঘণ্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হই। যার কারণে হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বক্তারা মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহায় মজুরির সমপরিমাণ উৎসব বোনাস ও মজুরিসহ ছুটি প্রদান, হোটেল সেক্টরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন করার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com