1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৯:২০ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সড়কের পাশের গাছ কাটা চেয়ারম্যানের কর্তব্য নয়

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪

সড়কের পাশের গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে এবং সেটাকে উপলক্ষ্য করে বিবাদে জড়িয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে কমবেশি মারামারি হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের মাজাইর গ্রামে। সড়কের উপর ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ পরিষ্কার করার অনুমতি দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন ‘আমি কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেইনি। রিমালের সময় একটি গাছ ও কিছু ডাল সড়কে পড়েছিল, এগুলো পরিষ্কার করার অনুমতি চেয়েছিলেন চেয়ারম্যান, আমি অনুমতি দিয়েছি।’ অই সড়কে উপড়ে পড়া গাছসহ সড়কের পাশে ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় রোপণ করা প্রতিবেশীর আরও ৯টি ফলভরা কাঁঠালগাছ কেটে ফেলার জন্যে এইটুক ‘অনুমতি’ই যথেষ্ট ছিলো চেয়ারম্যান সোহেল আহমদের জন্য। এই অনুমতির অজুহাতে তিনি একাধিক গাছ কেটেছেন। আসলে এই গাছ কাটার আড়ালে তিনি নিজের প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের খরচে একটি ড্রেন করতে চান, সেটাই করেছেন, ড্রেন করার জায়গা পরিষ্কার করেছেন। সংবাদপ্রতিবেদন পাঠে এমন ধারণাই উপজিত হয়। তাছাড়া গাছ কাটার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে গাছ কাটা বন্ধ রাখার জন্য বলেন। তখন তাঁর কক্ষে বিশ্বম্ভরপুরের সাংবাদিক স্বপন কুমার বর্মণও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে তখনই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) শিল্পী রানী মোদককেও ঘটনাস্থলে পাঠান। এসিল্যান্ড ওখানে পৌঁছার আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোনের তোয়াক্কা না করেই চেয়ারম্যান তার লোকজনদের দিয়ে ৯টি গাছ কেটে ফেলেন। অর্থাৎ প্রকারান্তরে তিনি প্রতিপন্ন করেন তিনি ভুলে গিয়েছেন যে, সড়কের পাশের গাছ রক্ষা করাই যে-কোনও জনপ্রতিনিধি বা তার মতো চেয়ারম্যানের কর্তব্য, কেটে ফেলা নয়।
সে যাই হোক গাছ কাটা দেশের ও দেশের মানুষের এবং বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবসভ্যতার বিরুদ্ধে ক্ষমার অযোগ্য একটি অপারাধ। আমাদের দেশে গাছ উজাড়নের ফলে প্রকৃতির বিরূপতা অর্থাৎ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতাসঞ্জাত বিপর্যয় ভয়াবহ আকারে অভিঘাত হানছে। প্রাকৃতিক বিরূপতার এই পরিপ্রেক্ষিতে গাছ কাটার অপরাধকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জরুরত দেখা দিয়েছে। এ কারণে সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বোঝাই যায় যে, উক্ত চেয়ারম্যান সচেতনভাবেই এই অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, তিনি আসলে চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। গাছ কাটা একটি অপরাধ, যে অপরাধটি মানবসভ্যতা ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত, সেটা একজন সাধারণ মানুষ না জেনে করে ফেললে তাকে তার অজ্ঞতার জন্য ক্ষমা করা যায়, কিন্তু একজন চেয়ারম্যান সে অপরাধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানবেন না এটা হতে পারে না। এমনটা হলে তিনি অবশ্যই নিজেকে তাঁর পদের জন্য অনুপযুক্ত করে তোলবেন। কোনও চেয়ারম্যান এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে তার উচিত ক্ষমা ভিক্ষা করা কিংবা স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দেওয়া এবং জনগণের টাকায় ড্রেন নির্মাণ বন্ধ রাখা। ভুলে গেলে চলবে না, ইউনিয়ন পরিষদের টাকা তার ব্যক্তিগত স্বার্থে খরচের জন্য নয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com