1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরে দেশি মাছের আকাল, জেলেদের দুর্দিন

  • আপডেট সময় শনিবার, ১ জুন, ২০২৪

চয়ন কান্তি দাস ::
হাওর, খাল, বিল, নদ-নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় মাছের রাজ্য হিসেবে পরিচিত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এই দুটি উপজেলায় দেশি মাছের চরম আকাল দেখা দিয়েছে। মাছ শিকার করতে না পারায় এখানকার জেলে পরিবারগুলোকে চরম কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১৭ হাজার ৩০০জন নিবন্ধিত জেলে ও অনিবন্ধিত ১২ হাজার ৫০০ মৌসুমি জেলে পরিবার রয়েছেন। এ বছর মাছের প্রজনন স্থানগুলোতে সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এবং পলি জমে এসব স্থানগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় দেশি মাছের চরম আকাল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বৈশাখ মাসের শুরু থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত মাছের প্রজনন মৌসুম। এই সময়ে দেশি মা মাছেরা ডিম ছাড়ে মাছের বংশ বৃদ্ধি করে। কিন্তু এ বছর সঠিক সময়ে হাওর-নদী পানিশূন্য ছিল। তাই মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়েছে। ফলে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজার, গাছতলা বাজার, মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর বাজার ও মহেষখলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে এখন পুকুরে চাষ করা পাঙাস, কৈ, সিলভার, ব্ল্যাক কার্প, সিং, মাগুর, কার্পিও মাছ বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ প্রতি কেজি ১৮০টাকা থেকে ৪৫০টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলার সলপ গ্রামের জেলে নহেল (৪০), রবি মিয়া (৩৫), সাজ্জাদ মিয়া (৪০), হারেছ মিয়া (৫৫) জানান, বোরো জমির ধান কাটা শেষ হলে হাওরে কোনো কাজ থাকে না। এবার মৌসুমের শুরুতে হাওর খাল বিল ও নদ নদী প্রায় পানিশূন্য ছিল। পানি না থাকায় জাল দিয়ে মাছ ধরা যায়নি। এ অবস্থায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে চরম কষ্টের মধ্যে তাঁদেরকে দিনযাপন করতে হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শওকত আলী (৬০) বলেন, দেশি মাছের খুব আকাল পড়ছে। বাজার থাইকা পুকুরের চাষ করা মাছ কিইনা খাইতে খাইতে দেশি মাছের স্বাদই আমরা ভুইলা যাইতাছি।
মধ্যনগর উপজেলার সাড়ারকোণা গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল মিয়া (৩০) বলেন, দেশি মাছ টেংরা, বাইম, গুলসা, বাইল্যা, টাকি, রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড় আকস্মিকভাবে বাজারে পাওয়া গেলেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। নিরুপায় হয়ে পুকুরের মাছই কিনে খেতে হচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, নানাবিধ কারণে এবার হাওর, খাল, বিল ও নদ-নদীতে পর্যাপ্ত পানি ছিল না। মাছের প্রজনন মৌসুমে এসব স্থানগুলোতে পানি খুবই কম থাকায় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটেছে। ফলে দেশি মাছের চরম আকাল দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন সবাইকে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে হাওরে পানি আসার পর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এই দুটি উপজেলার হাওরগুলোতে পর্যাপ্ত মাছের পোনা অবমুক্ত করতে হবে। আর তা না হলে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com