1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সাদাত মান্নান অভিকে ঘিরেই ভোটারদের উচ্ছ্বাস

  • আপডেট সময় শনিবার, ১ জুন, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার ::
৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে এমপি এমএ মান্নানের পুত্র সাদাত মান্নান অভিকে সমর্থন দিয়েছেন এমএ মান্নান বলয়ের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী আবুল কালামকে সমর্থন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা আজিজুস সামাদ ডনসহ তার বলয়ের নেতাকর্মীরা। তবে ডনের ‘আশীর্বাদ’ থেকে বাদ পড়েছেন তারই আস্থাভাজন চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন। এ নিয়ে ডন বলয়ে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধা-বিভক্তি। এ অবস্থায় জনসাধারণের ব্যাপক সমর্থনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদাত মান্নান অভি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তাকে ঘিরেই ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এমএ মান্নান সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে টানা ১৬ বছর ধরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এমএ মান্নান এমপি শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে থাকায় তাঁর নিজস্ব একটি বলয় ও নেতাকর্মী সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এমএ মান্নানের বদৌলতে সুনামগঞ্জ জেলাসহ জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় বৃহৎ বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প ও উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে একাডেমিক ভবন, সেতু, ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এমএ মান্নানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন তাঁর পুত্র অর্থনীতিবিদ সাদাত মান্নান অভিকে।
এলাকাবাসী আরও জানান, এমএ মান্নান প্রায় ১৬ বছর ধরে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এমএ মান্নান যেভাবে জনগণের সেবা করেছেন, ঠিক সেভাবেই তার সন্তান সাদাত মান্নান অভি জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবেন। ভবিষ্যতে তরুণ সাদাত মান্নান অভি সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন এমনটি স্বপ্ন দেখছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে, আজিজুস সামাদ ডন নিজেও এই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন কয়েক বার। কিন্তু পাননি। এ কারণে মান্নান ও ডনের দ্বন্দ্ব পুরনো। এই দ্বন্দ্বের ব্যাপ্তি ঘটেছে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। আজিজুস সামাদ ডন এমএ মান্নান পুত্র সাদাত মান্নান অভির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাজী আবুল কালামকে সম্প্রতি সমর্থন দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
অপরদিকে, গত সংসদ নির্বাচনে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এমএ মান্নানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ আজাদ ডনের হয়ে উপজেলায় সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। ওই সময়ে সুনামগঞ্জ সদর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ব্যবসায়ী হাজী আবুল কালাম ডন বলয়ের পক্ষে কাজ না করলেও সম্প্রতি আজিজুস সামাদ আজাদ ডন নিজের আস্থাভাজন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলনকে সমর্থন না দিয়ে হাজী আবুল কালামের ঘোড়া প্রতীকে সমর্থন দিয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা করেছেন। এর ফলে ডন বলয়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে, অনেকে হতাশ হয়েছেন। এ অবস্থায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এমএ মান্নানপুত্র সাদাত মান্নান অভি’র জনসমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হাজী আবুল কালাম ও অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন দুই দুই বারের প্রার্থী হলেও তারুণ্যের দিক নিয়ে সাদাত মান্নান অভি একজন নবীন প্রার্থী। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন নবীন তুখোড় রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁকে দেখছেন জনগণ।
প্রসঙ্গত, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী সাদাত মান্নান অভি সুনামগঞ্জ-৩ আসনের টানা তিন বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি’র একমাত্র পুত্র। তিনি লন্ডনের বার্কলেইজ ব্যাংকের এমডি ছিলেন। টানা ২০ বছর এই ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তিনি এলাকার মানুষের আগ্রহে জনসেবা জন্য রাজনীতিতে নেমে এসেছেন। বর্তমানে তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
অপরদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী হাজী আবুল কালাম, উচ্চশিক্ষিত না হলেও পুরনো রাজনীতিবিদ ও একজন সফল ব্যবসায়ী। জন্মসূত্রে শান্তিগঞ্জের বাসিন্দা হলেও তার বাসস্থান, ব্যবসা ও রাজনীতি সুনামগঞ্জ শহরকেন্দ্রিক। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে (ঘোড়া) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন। তিনি একজন আইনজীবী ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবনে তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভিপি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত কয়েকটি নির্বাচনেই তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে লড়েছেন। এবারও তিনি প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কর্মী ও সর্মথকদের নিয়ে ভোটের মাঠে গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে ডন বলয়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন বলেন, ভোটের মাঠে আজিজুস সামাদ আজাদ ডন কালাম সাহেবকে সমর্থন দেওয়ায় আমার কোন ক্ষতি হয়নি বরং ভালো হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুস সামাদ আজাদ ডন সাহেবের ও উনার সমর্থিত প্রার্থী কালাম সাহেবের। এ ঘটনায় আমার নেতাকর্মীরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আবুল কালাম বলেন, আমি এই উপজেলার একবারের চেয়ারম্যান ছিলাম। চেয়ারম্যান থাকাকালীন অনেক উন্নয়ন করেছি। কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুস সামাদ আজাদ ডন আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে কে কারে সমর্থন দিল সেটা ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর নয়। ভোটের মাঠে প্রার্থীর জনপ্রিয়তাই আসল। আমি শতভাগ আশাবাদী এই নির্বাচনে বিজয়ী হবো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অর্থনীতিবিদ সাদাত মান্নান অভি বলেন, আমার বাবা তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন অবস্থায়ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। রাজনীতিতে এসে অবহেলিত সুনামগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক জেলায় রূপান্তর করেছেন। বাবার এমন কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এলাকার মানুষের আগ্রহে আমিও রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। মানুষ আমাকে ব্যাপকভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন। আমার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে অসংখ্য মানুষ দিনরাত নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি জনকল্যাণে কাজ করে যাবো।
এদিকে স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সৎ, যোগ্য, পরোপকারী ও বিপদে যাকে কাছে পাবেন এমন প্রার্থীকেই বিজয়ী করবেন তারা। যে প্রার্থী উন্নয়ন করতে পারবে তাকেই চান সাধারণ ভোটাররা। তাই নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, আলোচনা তত বাড়ছে কে হবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এক্ষেত্রে ঘুরেফিরে আসছে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ মান্নানের পুত্র সাদাত মান্নান অভি’র নাম। এমএ মান্নান যেভাবে উন্নয়ন করেছেন, ঠিক সেভাবেই শান্তিগঞ্জবাসীর জন্য সাদাত মান্নান অভি কাজ করবেন বলে বিশ্বাস করছেন এলাকাবাসী। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এম এ মান্নান পুত্র অর্থনীতিবিদ সাদাত মান্নান অভির কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,৪৫,৭৯৭ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৭৪,২৮৫ জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা ৭১, ৫১০ জন ও হিজড়া ভোটার সংখ্যা ২ জন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com