1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

নারীর শ্লীলতাহানিসঞ্জাত অসম্মানের কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না

  • আপডেট সময় শনিবার, ১ জুন, ২০২৪

গত শুক্রবার (৩১ মে, ২০২৪) একটি সংবাদপ্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো, ‘পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন কারাদ-’। প্রতিবেদেনে বয়ান করা হয়েছে, ‘মামলার তদন্তের সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে নারীকে ধর্ষণের দায়ে আজিজুর রহমান চৌধুরী নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) রুকনুজ্জামান এই আদেশ দেন। […] ২০১২ সালে আজিজুর রহমান ছাতক থানার উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ছাতক পৌর শহরের একটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি এক পক্ষের এক নারীকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। মামলার পর আজিজুর রহমানকে প্রথমে সাময়িক ও পরে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। মামলার বিচারকাজ শেষে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত আজিজুর রহমান চৌধুরীকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দেন আদালতের বিচারক।’
একটি প্রচলিত ধারণা অর্থাৎ লোকশ্রুতি আছে যে, ‘টাকার পুতের মরণ নাই’। সাধারণ মানুষের বিশ^াস টাকার জোরে অনেক সময় ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যু কিংবা এইরূপ ভয়ঙ্কর ও নিশ্চিত বিপদ-আপদ থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। দেখে শোনে ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরেওয়ালাদের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘টাকার পুতের মরণ নাই’-এর মতো ‘সরকারি চাকরিওয়ালার বিপদ নাই’ লোকশ্রুতি তৈরি হয়েছে। এই ‘বিপদ-নাই’দের মধ্যে পুলিশওয়ালারা তো সবার উপরে। বিশেষ করে রাষ্ট্রযন্ত্রের শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষামূলক দায়িত্ব পালনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে আইনত যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়ে রাখা হয়েছে। তারা ইচ্ছে করলে সন্দেহের বশে যে-কাউকে আটক করার অধিকার রাখেন। এই আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার যে হয় না এমন নয়, কম পরিমাণে হলেও কালেভদ্রে হয়। পুলিশের তদন্তকাজের ক্ষেত্রেও সে-ক্ষমতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। কিন্তু তদন্তকাজের সুবাদে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণের অপরাধে জড়িয়ে পড়া সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রম, এটা ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অধিক একটা কীছু। পুলিশ কিংবা এইরূপ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপরাধের বিচারকালে প্রায়ই আইনানুসারেই ‘গুরুপাপে লঘুুদ-’ দেওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত আছে, গণমাধ্যমে প্রায়ই এমন সংবাদ প্রচারিত হতে দেখা যায়। ক্ষেত্র বিশেষে আইনটাই হয়তো এমন যে, সরকারি চাকুরিতে বহাল এমন বিশেষ অপরাধীকে ছাড় না দিয়ে কোনও উপায় থাকে না। অথবা আলামত-সাক্ষ্য-প্রমাণ ইত্যাদির অপ্রতুলতা ও আইনের মারপ্যাঁচের সুবাদে ক্ষতিগ্রস্তর পক্ষে আদালতের রায় পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। আলোচ্য ছাতক পৌর শহরের মামলাটির ক্ষেত্রে তেমন বিপর্যয় ঘটে নি। এই মামলায় নির্যাতিত নারী সুবিচার পেয়েছেন বলে আমাদের বিশ্বাস। কিন্তু তারপরেও একটি বিশেষ প্রসঙ্গের অবতারণা করতেই হচ্ছে : সামাজিক পরিসরে ওই নারীর শ্লীলতাহানিসঞ্জাত অসম্মানের কোনও ক্ষতিপূরণ আসলেই সম্ভব নয়, সমাজচেতনা যদি সংস্কৃতিগতভাবে ‘সেইভাবে’ বদলে না যায়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com