1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

প্রকৃতিবিনাশক কাজ বন্ধ করতেই হবে

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

‘ব্যাহত মাছের প্রজনন ॥ পানির সময়ে নেই পানি’ এটি সুনামগঞ্জের স্থানীয় একটি দৈনিকের সংবাদপ্রতিবেদনের শিরোনাম। প্রতিবেদেনটি পাঠিয়েছেন জামালগঞ্জ থেকে ওয়ালী উল্লাহ সরকার। তিনি লিখেছেন, “জামালগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে নেই পানি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ও পড়বে মৎস্য সম্পদের উপর। আশংকাজনক হারে কমে যাবে মাছ। জেলে সম্প্রদায় ও স্থানীয়রা বলছেন, হাওরে পানি না আসায় মাছের প্রজনন ব্যাহত হবে। এতে করে কয়েক হাজার জেলে পথে বসবে। ইতোমধ্যে অনেকে পেশা বদল করে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছে।”
হাওরাঞ্চলে সাধারণত বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে হাওর টুইটুম্বর হয়ে যায়। এবার প্রকৃতি বিরূপ। জ্যৈষ্ঠ মাস মাঝামাঝিতে এসেও হাওরে পানি নেই বললেই চলে। হাওরের স্লুইস গেইটের ডালা খুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু নদীর পানির স্তর নিচে থাকায় হাওরে ঢুকছে না পানি। মাছের প্রজননের সময় হাওরে পানি না ঢুকায় মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তৎসঙ্গে পানির অভাবে হাওরের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়েছে। অথচ এই সময়ে দেশের দক্ষিণের সুন্দরবন ডুবিয়ে দিয়ে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে এবং গত শনিবারসহ তার আগের সপ্তাহে বোধ করি সুনামগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল। বোঝাই যাচ্ছে প্রকৃতি বদলে গিয়ে হিং¯্র ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে। এবং এখন যে-হাওর মানুষকে লালন করে এসেছে এতোদিন সে আজ অপারগ হয়ে বলছে, ‘আমি সে-ক্ষমতা হারিয়েছি, আমার মাঝে উজ্জীবিত তোমাদেরকে প্রতিপালনের ক্ষমতা তোমরা তোমাদের কৃতকর্ম দিয়ে হরণ করেছো।’
হাওর বদলাছে। তার মানুষসহ জীবপ্রজাতি প্রতিপালনের ক্ষমতা প্রতিহত হচ্ছে, অর্থাৎ কমছে। প্রকৃতি কিন্তু নিজে নিজে এমনি নিঃস্ব হয়ে গিয়ে হিং¯্র ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠেনি। আমরা মানুষেরাই তাকে নির্যাতনে নিঃস্ব করে দিয়ে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। একদিকে পৃথিবীকে ঘিরে প্রকৃতির স্বাভাবিক বিকাশ এই গ্রহকে করেছে উদ্ভিদ ও প্রাণির সমাহারে জীবন্ত। অন্যদিকে তার বিপরীতে আমরা মানুষেরা বন উজাড় করেছি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড সৃষ্টির কারখানা বানিয়েছি এই পৃথিবীকে। অতিরিক্ত কার্বন পৃথিবীর বায়ুম-লের উষ্ণতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনিবার্যভাবে বদলে গেছে প্রকৃতি। এইভাবে পৃথিবীর বদলে যাওয়া আসলে পৃথিবীর নিজস্ব নয়, এটি আত্মহত্যাপ্রবণ মানবপ্রজাতির কৃতকর্মের উপহার। মানুষ যদি আত্মসুখের সন্ধানে প্রকৃতিবিনাশক কাজে মনোনিবেশ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে তবেই মৃত্যুপথযাত্রী পৃথিবীর সংকটমুক্তির উজ্জ্বল উদ্ধার দেখা দিতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পদসঞ্চয়ের আত্মসুখ মানুষকে খুনি করে তোলে এবং মানুষ তখন যুদ্ধ বাঁধাতেও কসুর করে না এবং এর ফলে মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের ক্ষতিসাধন হতেই থাকে। সুতরাং অতিরিক্ত মুনাফার পেছনে ছোটে মেহনতি মানুষতে শোষণ করার মনোবৃত্তি থেকে যুদ্ধের আয়োজন করার যাবতীয় কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করে যুদ্ধে নিয়োজিত পুঁজিকে বনায়নে নিয়োজিত না করা পর্যন্ত পৃথিবীর ধ্বংস কেউ ঠেকাতে পারবে না। বিশ^ব্যাপী এই ধ্বংসক্রিয়া অব্যাহত থাকলে সময় মতো হাওরে পানি আসবে না। একজন ওয়ালী উল্লাহর ‘পানির সময়ে নেই পানি’ এই হাহাকার চলতেই থাকবে, কখনওই প্রতিহত হবে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com