1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

কর্মীদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আশ্বাস দিচ্ছেন নেতারা

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থেকে জেলার কর্মসূচি সবখানে সক্রিয় থাকতে দেখা যায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের। গত বছরের ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের পর থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা শারীরিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ কেন্দ্র থেকে তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না। তারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী। নিজের খরচে মামলার খরচ চালাচ্ছে। দায়িত্বশীল নেতাদের তারা সময়মতো কাছে পান না। অথচ আন্দোলন কর্মসূচির সময় তাদেরকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকার বড় আন্দোলনে তারাই মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেন।
বিএনপির তৃণমূলের বিভিন্ন সারির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। দল ভোটে না গেলেও তৃণমূলে নানা সমীকরণের কারণে অনেক নেতা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দল এ পর্যন্ত ২২০ জন নেতাকে বহিষ্কার করছে। অংশ নিয়ে কয়েকজন নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। অনেক নেতাই মনে করছেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত আসতে বিলম্ব হয়েছে। আরও আগে এই সিদ্ধান্ত নিলে তৃণমূলে এত হযবরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সেই সঙ্গে উপজেলা নির্বাচন ইস্যুতে দলের এই দুর্যোগ সময়ে ব্যাপকহারে বহিষ্কার মঙ্গলজনক নয়। দল চাইলে কিছু বিষয়ে নমনীয় হতে পারত।
নাটোরের বাঘাতিপাড়ায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি যে নির্বাচন করেছেন সে ব্যাপারে অনেক বিএনপি নেতা তার জন্য একটি বাধা ছিল; কিন্তু সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জন্যই আজ তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পেরেছেন। এখানে দল থেকে ব্যক্তি ইমেজ বেশি কাজে দিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মানিক মনে করেন, যারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং যারা হতে পারেননি তাদের প্রত্যেককেই দলে ফেরানো উচিত।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, নেতারা আমাদের আশ্বস্ত করছেন বছর দেড়েকের মধ্যে দেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ আমেরিকা কিন্তু পিছু হটেনি। তারা বাংলাদেশ সরকারের সব কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করছে। আবারও স্যাংশন দেওয়া শুরু করেছে। তাই আমরা মনে করছি সামনে কিছু একটু হয়তো হবে।
তিনি বলেন, ইদানীং কেন্দ্র কিংবা সাংগঠনিক নেতাদের কাছ থেকে কর্মসূচি কিংবা আন্দোলন নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তৃণমূলে আমরা সুসংগঠিত। কর্মী-সমর্থকদের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়াচ্ছি। মামলা মোকাদ্দমায় সহায়তা করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, দলের এই কঠিন সংকটের সময়েও কেন্দ্রীয় নেতারা কমিটি বাণিজ্য করে। এটা ভাবা যায়! আন্দোলনের সময় আমরা চাঁদা তুলে কর্মসূচি পালন করি। দল থেকে বরাদ্দ থাকলেও আমরা এর বাইরে থাকি। কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে দিয়ে রাখা হচ্ছে। সামনে কীভাবে আন্দোলন হবে। উদ্দেশ্য কী? আমরা কিছুই জানি না। এই সরকার কেউ বলছে পুরো পাঁচ বছর থেকে যাবে। আবার কেউ বলছে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। এসব নিয়ে আমরা দিকভ্রান্ত। গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী পরিবার থেকে শুরু করে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘুরে দাঁড়ানো এখন কষ্টের। কেন্দ্রকে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা অনুধাবন করতে হবে। দূর দেশে থাকা হাইকমান্ডকে দায়িত্বশীল নেতারা ভুল বোঝাচ্ছেন। আন্দোলনের মূল মাঠে এসে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না দল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ওবায়েদ পাঠান বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন অসুস্থ। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তিনি রাজনীতির বাইরে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে আছেন। দেশের বাইরে থেকে তৃণমূল কর্মীদের নার্সিং করা কঠিন। নানামুখী নির্যাতন সহ্য করেও আমরা টিকে আছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থা আরও করুণ। তাদের মনোবল ভেঙে গেছে। এই সময়ে দায়িত্বশীল নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। অনেক দায়িত্বশীল নেতার দুর্বল ভূমিকার কারণে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা। তারা মাঠে ভালোভাবে কাজ করলে উপজেলা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা আরও কমে আসত বলে মনে হচ্ছে।
প্রায় একই কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্কর তপু। তিনি বলেন, দলের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে বলা হচ্ছে এই সরকারের অবস্থান নড়বড়ে। পাঁচ বছর স্থায়ী হতে পারবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে আমরা আশ্বস্ত হওয়ার চেয়ে বাস্তবতায় বেশি বিশ্বাসী। আমাদের দরকার নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করা। ঘুরে দাঁড়ানোর দরকার। দলের দুর্যোগে তৃণমূল সর্বোচ্চ লড়াই করে। ঠিক ভিন্ন চিত্র দেখা যায় কেন্দ্রে।
তিনি বলেন, এলাকার এক দোকানে বসে সবাই চা খায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই থাকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। আমরা বিএনপি করি বলে দোকানপাটে বসে আড্ডাও দিতে পারি না। এলাকায় চলতে ফিরতেও কষ্ট হয় আমাদের নেতাকর্মীদের। এসব বিষয় কেন্দ্রকে উপলব্ধি করতে হবে। তৃণমূলের এই নেতা জানান, সরাইলে উপজেলায় নেতাকর্মীদের নামে যত মামলা মোকাদ্দমা রয়েছে তার ব্যয়ভার তিনিই বহন করছেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক স¤পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, এখন আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের কর্মীসভা হচ্ছে জেলায় জেলায়। এরপর তারা মাঠের একটি চিত্র হাইকমান্ডের কাছে তুলে ধরবেন। ঈদের পর হয়তো দল ও অঙ্গ সংগঠন ঢেলে সাজানো হতে পারে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক ফরহাদ হোসেন মনে করেন, তৃণমূলের কর্মীরা সঠিক জায়গায় আছে। এই কর্মীদের নিয়েই তো ঢাকায় বড় বড় সমাবেশ করা হলো। কিন্তু দিনশেষে ঢাকায় আন্দোলন জমাতে না পারলে কোনো লাভ নেই। ঢাকা হলো প্রাণকেন্দ্র। সেখানের নেতাদের জ্বলে উঠতে হবে।
এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তৃণমূলে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। কারণ গুলশান থেকে এক বার্তা দেওয়া হয়। নয়াপল্টনে বসে রিজভী সাহেব দেন তীর্যক মন্তব্য। দলের শীর্ষনেতার আশপাশে থাকা নেতারা বলেন ভিন্ন কথা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কিছুটা বিরক্ত তো বটে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সরকারের এত দমনপীড়নের পরও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এক ও অভিন্ন আছে। আমাদের আন্দোলন সাময়িক বিরতি থাকলেও সাংগঠনিক কাজ চলমান। সারা দেশে দল গোছানোর কাজ চলছে জোরেশোরে। আশা করি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সময়মতো জেগে উঠবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com