1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী মন্তব্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
চলমান উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ও তৃণমূল নেতাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলাবিরোধী মন্তব্যের অপরাধ বিবেচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দলটি। এ নিয়ে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদেরও কারও কারও বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন।
ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী। সেটি সাংগঠনিক হতে পারে। অথবা আগামীতে দলীয় মনোনয়ন, পদ-পদবি না পাওয়া, অনেক ধরনের শাস্তি হতে পারে। এটি হয়তো নির্বাচন পরবর্তী বা সময় নিয়েও হতে পারে। প্রথমে হয়তো কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হবে। নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ আগে দল তারপর নেতা বা এমপি-মন্ত্রী। আওয়ামী লীগের আট বিভাগের আটটি সাংগঠনিক টিম রয়েছে, তারা দলের কাছে প্রতিবেদন তুলে ধরবেন। সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে গত ৬ মে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স¤পাদকম-লীর সভা শেষে দলের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দলের নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, সময় মতো তাদের কোনো না কোনো শাস্তি পেতে হবে। আমাদের অ্যাকশন কোনো না কোনোভাবে থাকেই। ৭০ জনের বেশি সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন না দেওয়া, আগের মন্ত্রিপরিষদের ২৫ জনকে নতুন কেবিনেটে না রাখা কি এর উদাহরণ নয়?
গত ১৭ মে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। গত ১৬ মে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অরুণাংশু দত্তের নির্বাচনি সভা থেকে এমপি রমেশ চন্দ্র সেনকে ‘অটো পাস এমপি’ উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক দফতর স¤পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল হাসান খোকন বলেন, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক কম, সাড়া নেই। মানুষদের টেনেও আমরা ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারি না, কারণ ভোটের ওপরে যে বিশ্বাস মানুষের এটি উঠে গেছে, ভোটের প্রতি বিশ্বাস নেই।
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রকাশ্যে গালি দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. আশ্রাফ আলী সারু।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি আ হ ম মুস্তফা কামালের ছোট ভাই গোলাম সারওয়ার। তিনি সদর আসনের এমপি ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কড়া সমালোচনা করে গত মঙ্গলবার রাতে এক নির্বাচনি পথসভায় বলেন, হুমকি দেবেন, আমরা কি বসে বসে আঙুল চুষব নাকি? ওপরের নির্দেশ আছে, পিটাইয়া লম্বা করে দাও।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক এক নির্বাচনি কর্মিসভায় বলেন, আমার চেয়ে বড় মাস্তান, বড় গুন্ডা বানারীপাড়ায় নাই।
নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দিলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই নোয়াখালীর কো¤পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তার সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুলের সমর্থনে আয়োজিত কর্মিসভায় বলেন, আমার কথা সোজাসুজি। আমি বাঁকা কথা আমি বলি না। ভোট যদি আমাদের তিনজনকে (চেয়ারম্যান, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান) দেন, তা হলে কেন্দ্রে আসিয়েন। শুধু শুধু কষ্ট করে কেন্দ্রে আসবেন না। বাড়িতে ঘুমাইয়েন।
উপজেলা নির্বাচনে বেফাঁস মন্তব্যে পিছিয়ে নেই ছাত্রলীগের নেতারাও। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল ব্যাপারী প্রতিপক্ষ প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নানা বক্তৃতায় হুমকি দিচ্ছেন। আপনার এই হুমকি কোনো কাজে আসবে না। কোনো সন্ত্রাসী কোনো কাজে আসবে না। ছাত্রলীগের ওপরে কোনো সন্ত্রাস নাই, কোনো শক্তি নাই।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি কেউ নির্বাচন নিয়ে কথাও বলতে পারবেন না। কিন্তু কোথাও কোথাও দেখেছি তার ব্যত্যয় ঘটেছে। তবে সার্বিক চিত্র কিন্তু এক নয়। কাজেই খ-িত চিত্রে দেখেছি, কিছু কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এমপি-মন্ত্রীরা। ইতিমধ্যে আমাদের দলের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদের কিন্তু সতর্ক করেছেন অনেককে। এমপি-মন্ত্রীরা অনেক সময় এমন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা দলের জন্য ক্ষতিকারক। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের কোনো কোনো নেতাও দলীয় সিদ্ধান্ত ও দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় এমন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এতে দলকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। দলের মান ক্ষুণœ হয়। তাই নির্বাচন পরবর্তী হয়তো তাদের অপরাধ বিবেচনা করে দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। প্রথমবার হয়তো তাদের কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হবে। তারা সদুত্তর না দিতে পারলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে। যারা অপ্রয়োজনীয় কথা বলেন, দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেন, তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন, তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দলের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ইতিমধ্যে আমাদের সামনে অনেকের বক্তব্য এসেছে। যাতে আমাদের রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, দলের বিরুদ্ধে যায় বা দলের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় এমন কোনো বক্তব্য দিলে তাকে দলীয়ভাবে শাস্তি পেতে হবে। আগে দল তারপর নেতা বা এমপি-মন্ত্রী। আমাদেরও অনেকের বক্তব্য দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তারা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের ভুলের মাত্রা অনুযায়ী দল ব্যবস্থা নেবে। তবে আওয়ামী লীগের আট বিভাগের আটটি সাংগঠনিক টিম রয়েছে। এই টিমের নেতারা দলের কাছে তাদের বক্তব্য দলকে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা তুলে ধরবে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল এত কিছু করছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। তারপরও যখন দলের কোনো নেতা বা এমপি-মন্ত্রীরা দলের শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। যদিও এখন দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। তবে আগামী দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে আসবে। আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠনিক স¤পাদকরা এ বিষয়গুলো দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com