1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের গভর্নর মালেক রহমাতিসহ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের গভীর ও বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনি ভূখ-ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে তেহরান। ফলে এই দেশগুলো শক্তি প্রদর্শন করতে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের কট্টর শত্রু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করতে পারে।
গত মাসে দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে বিমান হামলায় দুই ইরানি জেনারেল ও পাঁচ কর্মকর্তা নিহত হয়। এর জবাবে রাইসি ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বে ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জর্ডান এবং অন্যান্যদের সহায়তায় ইসরায়েল প্রায় সব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ইরানের ই¯পাহান শহরে বিমান প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেমের ওপর হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয় ইসরায়েল। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও হামলাটি সতর্ক বার্তাই ছিল।
এদিকে বছরের পর বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ছায়া যুদ্ধ চললেও গত এপ্রিলে হামলা, পাল্টা হামলা ছিল তাদের প্রথম সরাসরি সামরিক সংঘাত। অপরদিকে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সংঘাতে ইরানের অন্য মিত্ররাও জড়িয়ে পড়েছে। এতে আরেকটি যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও রয়েছে। আসলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যার কারণে রবিবারের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মতো অপ্রত্যাশিত মারাত্মক ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করার শপথ নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের কারণে ইরানকে বড় হুমকি হিসেবে দেখে ইসরায়েল। অন্যদিকে ইরানও নিজেকে ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখে এবং তাদের শীর্ষ নেতারা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
রাইসি কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি ধরা হত। গত মাসে ইসরায়েলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসরায়েল ৭৫ বছর ধরে ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। প্রথমে দখলদারদের বিতাড়িত করতে হবে, দ্বিতীয়ত তারা যে ক্ষতি করেছে তার মূল্য আদায় করতে হবে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ধারণা করা হয়, ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে কয়েক বছর ধরে অসংখ্য হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
যদিও রবিবারের হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় ইসরায়েলের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাইসির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত নয় ইসরায়েল।
অস্বীকার করার উপায় নেই, ইরান বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে। ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর হামলা চালায় হামাস, যা গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত করে। তবে হামাসের এই হামলায় ইরান সরাসরি জড়িত ছিল এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নেতারা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আসছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com