1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জায়গার অভাবে ধান সংগ্রহ ব্যাহত, কৃষকরা হতাশ

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪

মো. শাহজাহান মিয়া ::
জগন্নাথপুরে সরকারি খাদ্যগুদামে জায়গার অভাবে কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকটা নিরুপায় হয়ে ধান সংগ্রহ করতে দীর্ঘমেয়াদী তারিখ দিয়ে ভুক্তভোগী কৃষকদের ‘সান্ত¦না’ দিচ্ছে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ।
জগন্নাথপুরে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য ৫শ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি খাদ্যগুদাম রয়েছে। এর মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে একটি ও রাণীগঞ্জ বাজারে দুটি অবস্থিত। সারা বছর খাদ্যশস্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে কোনো রকমে কার্যক্রম চালাতে পারলেও বৈশাখ মৌসুমে বোরো ধান সংগ্রহকালে গুদামে জায়গার অভাব বিষয়টি সামনে চলে আসে। রাণীগঞ্জে দুটি গুদাম থাকায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও উপজেলা সদরে মাত্র একটি গুদাম থাকায় বিশেষ করে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ গুদামের পাশে আরেকটি গুদাম নির্মাণের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এখানে ৫শ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত ৭ মে থেকে জগন্নাথপুরে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন হয়েছে। এবার কৃষকদের কাছ থেকে ২৬০৮ মেট্রিক টন ধান ও ২৮৬৭ মেট্রিক টন আতপ-সিদ্ধ চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে শুধু জগন্নাথপুর সদর খাদ্যগুদামে ১৬৭৮ মেট্রিক টন ধান ও ১২৫৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। মাত্র ৫শ টনের একটি গুদামে এতো ধান-চাল সংগ্রহ করা নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে গুদাম কর্তৃপক্ষ। আর গুদামে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদী তারিখের কবলে পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। লটারিতে বিজয়ী হয়ে আসা তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গুদাম কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে ধান কিনতে লম্বা লম্বা তারিখ দিয়ে ঘুরাচ্ছে। এতে আমরা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।
সরেজমিনে শনিবার (১৮ মে) জগন্নাথপুর সদর খাদ্যগুদামে গেলে সেখানে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ধান নিয়ে আসা উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের জহিরপুর গ্রামের কৃষক জাফরান মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমাকে গত বুধবার ধান নিয়ে আসার তারিখ দেয়া হয়েছিল। গুদামের আঙিনায় আমার ধান রাখা থাকলেও আজ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারিনি। এ রকম লম্বা লম্বা তারিখের অভিযোগ এনে হতাশা প্রকাশ করেন অন্যান্য কৃষকরাও।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা দীপক সূত্রধর বলেন, সারা বছর কোন রকমে খাদ্যশস্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে চালাতে পারলেও বোরো সংগ্রহকালীন অনেকটা বেকায়দায় পড়তে হয়। নতুন আরেকটি গুদাম হলে আর কোন সমস্যা থাকবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমতাবস্থায় সংগ্রহকৃত ধান মিলিং ও চাল দেশের বিভিন্ন সরকারি কেন্দ্রে আদান-প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম চলছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা না আসায় ধান মিলিংয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ফলে সংগ্রহকৃত ধানে গুদাম মজুদ হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৭৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন সংগ্রহ করা যাবে। এরপর ধান রাখার জায়গার অভাবে সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত কৃষকদের ধান নিয়ে আসার তারিখ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। সংগ্রহকৃত ধান মিলিংয়ে দিতে পারলে গুদামে জায়গা সংকুলান হবে। তখন চাল সংগ্রহ করা যাবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন জানান, জগন্নাথপুরে আরেকটি খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গত প্রায় এক মাস আগে সারাদেশের ন্যায় জগন্নাথপুরে গুদাম নির্মাণের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথ্য নিয়েছেন। আমরা জানিয়েছি, আরেকটি গুদাম নির্মাণ করার মতো আমাদের অতিরিক্ত জায়গা আছে। আরেকটি নতুন গুদাম নির্মাণ হলে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে আর কোন সমস্যা থাকবে না।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুরে আরেকটি নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com