1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ১০:১৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ার প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪

একটি পত্রিকায় একজন স্বনামধন্য বিদ্বান ‘জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণ করতে হবে’ শিরোনামে উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। ভেতরে একজায়গায় লিখেছেন, “পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমাদের উচিত এই ব্যবস্থাকে রোধ করে একটি জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণে সবার সক্রিয় ভূমিকা রাখা। দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য সুজন কাজ করছে।” এই বিদ্বানের ও তার সামাজিক সংগঠন সুজনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। এমন হাজারটা সংগঠন বিদ্যমান সমাজসাংস্থিতিক পরিসরে থাকেতেই পারে, যেহেতু এবংবিধ সংগঠনগুলো প্রকারান্তরে বিদ্যমান সমাজসংস্থিতি বা আর্থসামাজিক ব্যবস্থা-বিন্যাসে আধিপত্য বিস্তারকারী রাজনীতির অনুমোদিত সংগঠন মাত্র। বিদ্যমান ব্যবস্থার অধীনেই সুজন এবং সুজনের মতো সংগঠনগুলো কাজ করে প্রতিষ্ঠিত ও বিদ্যমান ‘এই ব্যবস্থাকে রোধ করে’ নয়, বরং নমস্য মেনে। সুতরাং তাঁদের কোনও কথা-পরামর্শে বিদ্যমান রাষ্ট্রক্ষমতার কোনও পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না।
জবাবদিহিমূলক সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের জন্য মৌলিক যে-পরিবর্তন চাই সেটা হলোÑ খুব কম কথায় এবং অধিকতর স্পষ্ট করে বলেলে বলতে হয়Ñ রাষ্ট্রক্ষমতায় শোষকশ্রেণির আধিপত্যের পরিবর্তে শোষিতশ্রেণির একক আধিপত্যের বিস্তার। ব্যাপক কৃষক-শ্রমিক শ্রেণিকে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রেখে ‘জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণ করতে হবে’ বুলিটা একটা ভাজা বরফ মাত্র, কারণ সুজন কোনও কৃষক-শ্রমিকের রাজনীতিক সংগঠন নয় যে, সেটা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সবকীছু বদলে দেব, তাছাড়া বাস্তব অবস্থা বলছে এমনকি কোনও কার্যকর ভূমিকাও পালন করতে পারবে বলেও মনে হয় না, কেবল কথা বলাই সার হবে। দেশে বিদ্যমান এবংবিধ যাবতীয় রাজনীতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সর্ববিধ সংগঠনকে বুঝতে হবে তাঁরা যখন ‘দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য’ কাজ করছেন তখন দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার ভেতরে অপরিবর্তিত শক্তি আমলাতান্ত্রিকতা নিজেদের সন্তানদের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করছে, সরকার ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ কারার চিন্তাভাবনা করছে এবং যথারীতি আমলাতন্ত্রের সঙ্গে রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট আছে।
‘দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য কাজ করা’র বিষয়টি আসলে এক বহুবিচিত্র ও জটিল রাজনীতিক প্রপঞ্চ। এই কাজকে প্রতিহত করা ও আরও জটিল করে তোলার জন্যে তৈরি করা হাজারটা ঘাপলার একটি আমলাতান্ত্রিকতার প্রসঙ্গ এখানে এমনিতে কথায় কথায় উত্থাপিত হয়ে পড়েছে। একবার ভেবে দেখুন প্রত্যন্ত গ্রামেও যদি আমলাতান্ত্রিকতার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় তা-হলে দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিতা বলে কোনও কীছু অবশিষ্ট থাকবে কি? আমলাতন্ত্রের কাছে কি জনগণের পক্ষ থেকে এসব সুমহান প্রপঞ্চের বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করা যায়, যে-তন্ত্র স্থানীয় সরকারের মাথার উপরে বসে থেকে সেটাকে এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে দিচ্ছে না এবং আমলাদের সন্তানদেরকে জনগণের সন্তান থেকে আলাদা তরিকায় শিক্ষিত করার বাসনা পোষণ করে, কারণ সে-তন্ত্র জানে শিক্ষা সমাজ নিয়ন্ত্রণের উত্তম হাতিয়ার এই হাতিয়ার সে জনগণের সন্তানের হাতে তোলে দিতে চায় না, কারণ কৃষক-শ্রমিকের সন্তান শিক্ষিত হলে তাদেরকে শাসন করা যাবে না বরং তারা নিজেরাই শাসক হয়ে উঠবে।
গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ার প্রতিবন্ধকতার এই তো গেল মাত্র একটি দিকের কথা, আরও অনেক দিক আছে, অনেক অনেক প্রসঙ্গ আছে। কম কথার নয় এমনসব জটিল ও বহুবিচিত্র প্রসঙ্গের অবতারণা এখানে আপাতত করছি না এবং করাটাও বাঞ্ছনীয় নয়।
কেবল বলি : বাংলাদেশে ‘জবাবদিহিমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাস্তবায়ন’ একটি দিল্লি দূরস্ত ব্যাপার, যদি না সুজন নিজে এবং সুজনের মতো অন্যান্যরা একাট্টা হয়ে একক রাজনীতিক সংগঠন হয়ে না উঠে এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় কার্যকরভাবে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার রক্ষ্যে জনগণের পাশে না দাঁড়ায়, জনগণের সঙ্গে মিশে না যায়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com