1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

‘অনেক অবিচার এখনও আছে’ : আশায় বসতি কেবল ভরসা

  • আপডেট সময় শনিবার, ৪ মে, ২০২৪

“আমাদের সমস্যা এই মুহূর্তে নিরক্ষরতা, দারিদ্র্য এবং অবিচার। আমি মনে করি, অনেক অবিচার, অযৌক্তিক বিষয় এখানে আছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে- অনেকগুলো আইন দ্বারা স্বীকৃত। এগুলো সব অতীতের আইন। বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে এ ধরনের আইন সংস্কার করার জন্য। কিন্তু আইন তো শুধু কথাবার্তা, আমাদের একটা আমলাতন্ত্র আছে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।” সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমনটিই লেখা হয়েছে। এই কথাটুকু একটি ভাষণের অংশবিশেষ।
ভাষ্যকার রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিচালকদের একজন। তিনি সত্যি কথাটা বলেছেন, সকলে বলেন না, তাঁকে ধন্যবাদ। তাঁর উপলব্ধিটা সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বার্তা বহন করছে, সে বার্তাটি হলো : আমাদের ঘুনেধরা এই সমাজের এখনই, এই মুহূর্তে, আমূল পরিবর্তন চাই। “কিন্তু আইন তো শুধু কথাবার্তা, আমাদের একটা আমলাতন্ত্র আছে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।” এই কথার ভেতরে এক গভীর তাৎপর্য আছে। সেটা বুঝাতে গেলে কথায় কথা বাড়ে, স্থানস্বল্পতার কারণে এখানে কথা বাড়ানের অবকাশ নেই। বাধ্য হয়ে একটি উদাহরণ দিচ্ছি, “ঋণ জালিয়াতির নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করে ২০২১ সালে দুদককে প্রতিবেদন দেয় বিএফআইইউ। সাদ মুসার কর্ণধারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে এনবিআরের অর্থপাচার মামলা চলছে। অথচ দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে দুদক মোহসিনের বিরুদ্ধে করা এই মামলা নথিভুক্তির মাধ্যমে সমাপ্তির সুপারিশ করেছে।” (দৈনিক সমকাল, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪, পৃষ্ঠা : ১৩, স্তম্ভ : ৫, শিরোনাম : এবার ঋণ জালিয়াতিতে ‘ছক্কা’ সাদ মুসার) । এই উদাহরণের ঘটনায় আমলাতন্ত্র আইনের আওতায় চিহ্নিত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না করে দায়মুক্তি দিতে চাইছে। এমন অসভ্যতার চূড়ান্ত করে একদা মুজিবহত্যার দায়মুক্তিও দেওয়া হয়েছিল এই দেশের জাতীয় সংসদে বসে।
অন্যরকম একটি উদাহরণ দিয়েছেন স্বয়ং ভাষ্যকার। তিনি বলেছেন, “কয়েক বছর আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিলেন, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত স¤পদের ভাগাভাগির ব্যাপারে। আমিও চাই, ছেলেমেয়ে সমান ভাগে স¤পত্তি পাক। কিন্তু তিনি সেটা পারলেন না শেষ পর্যন্ত। আপস করতে হলো। এগুলো হচ্ছে আমাদের বাস্তবিক ব্যবস্থা। এগুলো বাস্তবায়ন খুবই কঠিন।” অর্থাৎ আমলা, রাজনীতিবিদ, জনসাধারণের সুবিধাবাদী অংশ এই সব দুর্নীতি অর্থাৎ ভাষ্যকারের মতে ‘অনেক অবিচার, অযৌক্তিক বিষয়’-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। বদলানো যাবে না। সরকার পরিবর্তন হবে, কিন্তু আমলাতান্ত্রিকতা কোনও পরিবর্তন হবে না। আমলার অবসরের আগে তাঁর ঘটনাবিপর্যয়ের কল্যাণে পদচ্যুতি ব্যতীত পদাধিকার বহালতবিয়তেই থাকবেÑ এই বহালতবিয়তের ভেতরে যতো অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক বিচ্যুতিই ঘটুক না কেনÑ তাতে কারও কীছু করার নেই। যেমন পুলিশ যে- কোনও মানুষকে সন্দেহ করার অধিকার রাখেন কিন্তু কোনও সাধারণ মানুষ পুলিশকে সন্দেহ করার অধিকার রাখেন না। অর্থাৎ এইসব বিষয় এবং এই আইনি বাস্তবতা ভাষ্যকারের “আমি মনে করি, অনেক অবিচার, অযৌক্তিক বিষয় এখানে আছে” এই উক্তিকে প্রতিপন্ন করে।
তারপর কিংকর্তব্যবিমূঢ়াবস্থায় জনগণ এখনও কেবল পরিবর্তনের আশায় বসে আছেন, যে-পরিবর্তন অবশ্যই আসবে। ‘আশায় বসতি’ এখন কেবল ভরসা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com