1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

পাইকারদের সিন্ডিকেটের জালে কৃষক

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৪

শহীদনূর আহমেদ ::
“এক কেয়ার জমি চাষ করতে ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হইছে। নিজের খাটনিতো বাদই। বাজারে সবতার দাম বাড়ে, খালি ধানের দাম বাড়ে না। কৃষকের শ্রমের দাম নেই। এক মণ ধানের দাম ৯০০ টাকা। ধানের দামে আর জমির খরচে ফরতায় পড়ে না। ধানের দাম না বাড়ালে কৃষকের ক্ষতি ছাড়া লাভ নাই।”
এভাবেই আক্ষেপ করে ধানের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাদুরপুর গ্রামে কৃষক আব্দুল মতিন। আব্দুল মতিনের মতো ধানের ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সুনামগঞ্জে বোরো ধানের বা¤পার ফলন হয়েছে। আবাদকৃত ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমি থেকে ১৩ লাখ ৭০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। যার অর্থনৈতিক মূল্য ৪ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আবাদকৃত জমির অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম। আর সপ্তাহ-দশ দিনের মধ্যে হাওর এলাকার শতভাগ ধান কাটা শেষ হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
জেলার বিভিন্ন হাওরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো, গোলায় তুলতে ব্যস্ত রয়েছেন কৃষক-কৃষাণীরা। ধান কাটাসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করতে উৎপাদিত ধান খলায় বিক্রি করছেন কৃষকরা। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, স্থানীয় পাইকার ও বেপারিদের কাছে মণ প্রতি সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় ধান বিক্রি করছেন তারা। পাইকারদের সিন্ডিকেট ধানের এই দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কৃষকরা নিরুপায় হয়েই তাদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।
কৃষকরা জানান, পুরো ময়ালে এমন দামে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা। পাইকারদের একটি সিন্ডিকেট ধানের মূল্য নির্ধারণ করছে। এতে ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তৃণমূল পর্যায়ের ধানের মূল্য নির্ধারণের দাবি কৃষকদের।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের কৃষক মানিক মিয়া বলেন, এক কেয়ার জমি চাষ করতে কৃষকের যে খরচ হয়, ধানের এমন দামে তা পুষায় না। পাইকাররা ইচ্ছে মতো ধানের মূল্য নির্ধারণ করেন। পাইকারদের সিন্ডিকেটের জালে কৃষকরা আটকে গেছেন। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত আমরা। মণ প্রতি ১৫০০-১৬০০ টাকা পেলে কৃষকরা লাভবান হতেন। আশা করবো সরকার বিষয়টি দেখবেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাই হাওরের কৃষক মামরুল মিয়া বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ধানের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে দিলে কৃষকরা লাভবান হবেন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে সরকারিভাবে ধানক্রয়ের দাম ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবে জেলা পর্যায়ে কি পরিমাণ ধান ক্রয় করা হবে তা এখনো জানাযায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম ভুঞা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com