1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০১:১০ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : সরগরম ভোটের মাঠ

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার ::
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠেছে সুনামগঞ্জের ভোটের মাঠ। জেলার প্রতিটি উপজেলাতে এখন চলছে উপজেলা ভোট নিয়ে আলোচনা-জল্পনা-কল্পনা। ভোটাররা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ করছেন।
জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই এবার প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবার দলীয়ভাবে কাউকে প্রার্থী করছে না। প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকা এবং কাউকে নৌকা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলের স্থানীয় নেতারা যে যার মতো করে নির্বাচন করছেন। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুরের মোট ৮ জন বিএনপি নেতা ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল প্রার্থীই এখন সরব। ধাপে ধাপে ভোটের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে ততই প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের তোড়জোড় বাড়ছে।
সচেতন ভোটারদের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই প্রতিটি এলাকায় সরাসরি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও বিভিন্ন জনস¤পৃক্ত কাজ করে থাকেন। এ কারণে সবাই চান তাদের পছন্দের প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হোক। তাই এ নির্বাচন সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। এবার দলীয় প্রার্থী না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর আধিক্য থাকছে বিধায় অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ভোট হবে আগামী ৮ মে। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে। ভোটারদের মনজয়ে দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। এই অবস্থায় কদর বেড়েছে সাধারণ ভোটারদের। দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় এখন পুরোদমে বইছে নির্বাচনি হাওয়া।
দিরাই উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গোলাপ মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আজাদুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ নেতা রঞ্জন কুমার রায় ও পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিপা সিন্হা। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৩ জন। তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অ্যাড. অবনী মোহন দাস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দিপু রঞ্জন দাশ। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ জন প্রার্থী এবং ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপরদিকে, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে এই চারটি উপজেলায় ৫৩ জন প্রার্থী অনলাইনে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আওয়ামী লীগের। তবে প্রতিটি উপজেলাতেই চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতাকর্মীসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদেও ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৩জন। তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আল আজাদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাংবাদিক আকবর হোসেন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী আফিন্দি রাজু, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং যুবলীগ নেতা মকবুল হোসেন আফিন্দী। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বীণা রানী তালুকদার, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দীপু ও আওয়ামী লীগ নেত্রী মারজানা ইসলাম শিবনা।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৭জন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিনজন। চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমাদানকারী প্রার্থীরা হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল, অধ্যাপক আলী মরতুজা, যুবদলের সাবেক সভাপতি বুরহান উদ্দিন, মিঠু রঞ্জন পাল, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কাশেম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান ও যুবলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে প্রার্থী হয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের আবু সাঈদ স্বর্ণালী, জিল্লুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর খোকন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সুষমা জাম্বিল, আইরিন আক্তার ও খালেদা বেগম।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ৫জন। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ কুমার তালুকদার, বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্চু ও যুবলীগ নেতা রঞ্জিত চৌধুরী রাজন। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তারজুদ আলী খান, শাহ দিলোয়ার, মো. আবুল মান্নান, নূরুল ইসলাম, মো. জুলহাস মিয়া ও সেলিম আহমদ মিঠু। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মাহফুজা আক্তার রিনা, আমেনা খাতুন, পেয়ারা বেগম, বিএনপি নেত্রী মোছা. মদিনা আক্তার, যুবলীগ নেত্রী জান্নাত মরিয়ম।
ধর্মপাশা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ৬জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমাদানকারীরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাসরিন সুলতানা দিপা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ও মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী মো. বাশার তালুকদার।
অপরদিকে, ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় ভোট হবে ২৯ মে। এই দুই উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। আগামী ২ মে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার আগে তারা নানা হিসাব-নিকাশ করে নিচ্ছেন।
ছাতক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন মিয়া, আওলাদ আলী রেজা, রফিকুল ইসলাম কিরণ, মাহমুদ আলী ও আমজাদ আলী। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে প্রচারণায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেন, কৃষক লীগ নেতা আব্দুল জব্বার খোকন, কাজী মাওলানা আব্দুস সামাদ, বাবুল রায়, আব্দুল গাফফার, আতাউল সানি, ইজাজুল হক রনি, মাহবুবুর রহমান রুয়েল, শিপলু আহমেদ, মুজিবুর রহমান, রুকন আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেবুল আহমেদ। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. লিপি বেগম, সেলিনা পারভীন মুক্তা ও স্বপ্না রানী সিনহা।
এদিকে, উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ও শেষ ধাপে হবে জেলার শান্তিগঞ্জ, সদর ও মধ্যনগরের ভোট। ইতোমধ্যে কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছেন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৯ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১২ মে। আর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১৬ থেকে ১৮ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ মে। ২০ মে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে এবং আগামী ৫ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হবে চতুর্থ ধাপের ভোট গ্রহণ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের পুত্র সাদাত মান্নান অভি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক স¤পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বোরহান উদ্দিন দোলন।
অপরদিকে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. মণীষ কান্তি দে মিন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী স্মরণ, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ মোমতাজুল হাসান আবেদ। তারা ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
বিভিন্ন উপজেলার সচেতন ভোটারদের সাথে কথা হলে তারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে দল থেকে ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। এবার যেহেতু দলীয় প্রতীক নেই, তাই নির্বাচন জমজমাট হবে। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। ভোটাররাও নির্বাচনি আমেজ উপভোগ করছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com