1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : শাল্লায় আ.লীগ-বিএনপি’র লড়াই

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪

জয়ন্ত সেন ::
একদিকে তপ্তরোদ উপেক্ষা করে বোরোধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষক। প্রখর রোদে বিরামহীন পরিশ্রমের কারণে চেহারা হয়ে গেছে অনেকটাই তা¤্রবর্ণ। এরমধ্যেও কৃষকের রোদে পুড়া মলিন মুখম-ল নিয়েই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের খোঁজখবর নিতে আগ্রহটাই ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনার। উপজেলাটিতে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে বদ্ধপরিকর। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাইছে না নির্বাচনের মাঠে। তীব্র গরমেও হাওরে ধান কাটতে কাটতে থেমে নেই নির্বাচনী উৎসবের আলোচনা! এ যেনো কঠোর কায়িক শ্রমের মধ্যেও ভিন্ন রসদ জুগিয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। উভয় দলের প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা থেমে নেই যেমন হাট-বাজারে, তেমনি থেমে নেই ধানের জমিতেও। সর্বত্রই আ’লীগ-বিএনপির প্রার্থীদের ভোটের হিসেব-নিকেশ করছেন কৃষকরা। ২২ এপ্রিল সরেজমিনে, নির্বাচন নিয়ে এমনই সরগরম আলোচনা-সমালোচনা করতে দেখা গেলো খোদ হাওরে। সচেতন ভোটাররা জানান, বিএনপি ভোটে না থাকলেও অথবা আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিলেও শেষ পর্যন্ত এই দুই দলের নেতাদের মধ্যেই লড়াই হবে। মোটকথা শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ভোটযুদ্ধ।
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাশও গ্রামে গ্রামে মতবিনিময় করে গরম করছেন নির্বাচনী মাঠ। তবে এক্ষেত্রে বিএনপির উপজেলার সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার রয়েছেন ভিন্ন কৌশলে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মতবিনিময় সভায় দেখা যায়নি তাকে।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার মুঠোফোনে বলেন আপনি জানেন যে, পূর্বেও আমি উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। এবছর তৃণমূল বিএনপি শাল্লায় উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মানতে চাইছেন না তারা। তাদের আগ্রহের কারণেই আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। এক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কার করলেও আমার আপত্তি নেই। নির্বাচিত হলে দল ঠিকই আমাকে ফিরিয়ে নিবেন। অতীতেও সুনামগঞ্জ জেলায় এমন হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমি বিজয়ী হবো। আমার সমাজের ১৭ হাজার ভোটার আছে। তাদের ভোট এবছর আমি পাবো। এসব ভোট পূর্বে আমার ছিলো না। তাছাড়া আ.লীগের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব আছে উপজেলায়। এই সুযোগটাই নিতে চাই! কারণ, নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। তৃণমূল কর্মীরা যাতে নিরুৎসাহিত না হয়, সেদিক বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাশ বলেন, জনগণ নির্বাচিত করবেন তাদের যোগ্য চেয়ারম্যান। জনগণ যদি আমাকে ভোট দেন, তাহলে আমি নির্বাচিত হবো। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনতা যাকে রায় দেবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। জনগণের প্রতি আস্থ আছে আমার। সবশেষে তিনিই বিজয়ী হবেন এমন আস্থা জনগণের প্রতি আছে বলে জানান বিশিষ্ট সালিশি ব্যক্তিত্ব অবনী মোহন দাশ।
অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান দিপু রঞ্জুন দাশও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। তবে তার মুঠোফোন যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম শামীম বলেন, আমার মনোনয়নে কিছু ত্রুটি থাকায় আমি এখন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। আগামীকাল (২৩ এপ্রিল) হাইকোর্টে শুনানি হবে। জি বাংলা ফুড প্রোডাক্টের ডাইরেক্টরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। নতুন প্রার্থী হওয়ায় অনেক কিছুই আমার অজানা ছিল। এ জন্য আমি আইনজীবীর প্রতি কিছুটা মনোক্ষুণè হয়েছি।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৪জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শর্বরী মজুমদার, আলপিনা আক্তার, মর্তুজা আক্তার ও ছায়ামণি আক্তার।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করছেন ৯জন। তারা হলেন- অরিন্দম চৌধুরী অপু, প্রদীপ দাস, ফেণি ভূষণ সরকার, আব্দুল মজিদ, সাইফুর রহমান, শেখ শহীদুল ইসলাম, বিষ্ণুপদ দাস, কালীপদ রায় ও হাজিরুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল কবির বলেন, এস এম শামীমের কোনো তথ্য এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৯১ হাজার ৩২৭। এরমধ্যে ৪৬ হাজার ৯৭৯জন পুরুষ ভোটার। নারী ভোটার রয়েছে ৪৬ হাজার ১৪৮জন। উপজেলার ৩৭টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com