1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট থেকে কৃষককে বাঁচাতে হবে : কৃষিমন্ত্রী

  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ::
কৃষিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুস শহীদ এমপি বলেছেন, কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পায়, সে জন্য মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট তৎপরতা শুরু করতে পারে। সেদিকে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই মওসুমে মধ্যস্বত্বভোগীরা যেনো কোনো ধরনের সুবিধা নিতে না পারে, সিন্ডিকেট করে কৃষকদের বিপদে ফেলতে না পারে সেদিকে আমাদের সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রশাসন ও জনপ্রতনিধিদের সজাগ থাকতে হবে। সরকার কৃষকের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য দিতে চায়। শেখ হাসিনার সরকার কৃষি ও কৃষককে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের পাশে দেখার হাওরে ধানকাটা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আগে হাওরে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুস শহীদ নিজ হাতে জেলার সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধান কাটেন। পরে তিনি দুটি কম্বাইন হার্ভেস্টর প্রদান করেন দুই কৃষককে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এমদাদুল হক শরীফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ড. মোহাম্মদ সাদিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি অ্যাড. রনজিত চন্দ্র সরকার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মলয় চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহজাহান কবির, বিনা’র মহাপরিচালক ড. মীর্জা মোফাজ্জল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাইদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, মো. রেজাউল করিম, সিলেট অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মতিউজ্জামান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তারিক মাহমুদুল হাসান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল প্রমুখ। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেচ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রণজিত কুমার দেব, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মান্নান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল আলম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল কালাম প্রমুখ।
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুস শহীদ এমপি আরো বলেন, সুনামগঞ্জ কৃষির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এখানে বন্যা দুর্যোগ ঘনঘন হয়। খরায়ও ক্ষতি হয়। হাওরের কৃষকরা কষ্ট করে ফসল ফলান। তারা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাননা। তাই তারা যাতে ন্যায্যমূল্য পায় সেটা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, হাওরের কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে সরকার আগামী পরশু সভা করবে। আমরা এই সভায় ধান-চালের দাম নির্ধারণ করে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। কৃষক যাতে উৎপাদিত ফসলের যথাযথ দাম পায় আমরা সেটা নিশ্চিত করবো। কোনো সিন্ডিকেট যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার হাওরে কৃষিতে বিপুল বরাদ্দ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হাওরের কৃষকদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আগামীতে যন্ত্রসহ কৃষিতে আরো বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষকদের কাজ এখন সহজ হয়েছে। আমি নিজেও কৃষিযন্ত্রের মাধ্যমে উপকার পেয়েছি। সহজেই ধান কাটা, মাড়াই করা যাচ্ছে। তবে এসব যন্ত্র প্রদানে অনিয়ম, কোম্পানির উদাসীনতা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেন, কৃষকরা হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রাণ। ‘কৃষি বাঁচলে, দেশ বাঁচবে’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বোরো ধান কাটার মওসুমে কৃষকের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কাজ করছি।
চলতি বছর খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষক বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন সেটাই সরকার করবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় যারা কর্মকর্তা আছেন তাঁদেরকে বলব ধানের দামে যেন মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী কেউ যাতে সুবিধা নিতে না পারেন। প্রকৃত কৃষকেরাই যেন সঠিক দামে যেন ধান বিক্রি করতে সে দিকে কঠোর ভাবে লক্ষ রাখতে হবে। ধান বিক্রিতে যেন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি সে জন্য ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানদের লক্ষ রাখতে হবে।
মন্ত্রী ড. আব্দুস শহীদ আরও বলেন, সুনামগঞ্জ একটি ঝুঁকি পূর্ণ এলাকা। বিগত সময়ে দেখেছি, হাওরের বন্যার কারণে পুরো জেলা বোরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের কিছুই ছিল না। যাতে বন্যা মোকাবিলা করে ফসল উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারি সে লক্ষ্যেই কাজ করব।
স্থানীয় লোকজনের বিভিন্ন পরামর্শ চেয়ে আব্দুস শহীদ বলেন, আপনাদের পরামর্শ আমাদের কর্মকর্তাদের জানাবেন। যাচাই-বাছাই করে দেখব পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করা যায় কি না। তিনি আরও বলেন, আমরা যে মেশিন দিই সেগুলো নষ্ট হতেই পারে। আমরা যে গাড়ি চালাই সেগুলোও নষ্ট হয় পরে আমরা ঠিক করি। এভাবে মেশিনগুলোকেও ঠিক রাখতে হবে মেরামত করার মাধ্যমে।
কৃষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, হাওরে যেহেতু ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে, কাজেই আপনারা আগাম ও স্বল্প জীবনকালীন জাতের ধান চাষ কারুন। তাছাড়া আমাদের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান, যেগুলোর উৎপাদন অনেক বেশি, সেগুলো চাষে এগিয়ে আসুন। বন্যা মোকাবেলা করে ফসল উৎপাদন যাতে চালিয়ে যেতে পারি সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। হাওরের ফসলকে ঝুঁকিমুক্ত করতে বর্তমান সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com